October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

অতিবৃষ্টিতে বেড়েছে সবজির দাম, কমেছে মাছের

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত কয়েকদিন ধরে চলমান টানা বৃষ্টি ও কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ভেসে গেছে দেশের অসংখ্য ফসলের ক্ষেত। সেই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা, মুছে গেছে মুখের হাসি। সেই ক্ষতির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজি বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।

এদিকে, রাজধানীতে হঠাৎ সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টির অজুহাতে অনেক সবজি বিক্রেতাই অন্যায্যভাবে দাম হাঁকাচ্ছেন- এমন অভিযোগও করছেন কেউ কেউ। কথা হয়, কারওয়ান বাজারে বাজার করতে বেসরকারি ব্যংক কর্মকর্তা সুলতানা কামালের সঙ্গে।

হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে যে টমেটো ৪০-৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হত, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। এছাড়া, সবকিছুরই দাম বেশি। বলছে বৃষ্টির কারণে বাজরে সবজির সংকট, তাই দাম বেশি। কিন্তু আমার মনে হয়, তারা বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার, হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে সবজির দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। একই সাথে অনেক ফসলে পচন ধরেছে। এসব কারণে কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে সবজি আমদানি কম হচ্ছে। ফলে দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সবজির দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানান তারা।

চলতি সপ্তাহে প্রতিকেজি সাদা আলু ২০ থেকে ২২ টাকা, লাল আলু ২৬ থেকে ২৮ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৪০ থেকে ৫০, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা-চিচিঙ্গা-কাকরোল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুরমুখি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, লেবু হালিপ্রতি ১৬ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক, লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক ইত্যাদি আঁটিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়।

চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজ-রসুনও আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং আমদানি করা পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা; যা সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ৭ টাকা বেশি। এছাড়া, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। কমেছে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের দাম। মাছ বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে বাজারে প্রচুর মাছ আসছে। তাই দাম তুলনামূলকভাবে কম।

চলতি সপ্তাহে আকারভেদে প্রতিকেজি রুই ও কাতলা মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, হাইব্রিড কৈ মাছ ১৪০ থেকে ১৫০, ভেটকি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, আকারভেদে প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে।

চলতি সপ্তাহে মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া, গরুর মাংস ৪৯০-৫২০ টাকা, খাসির মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। এছাড়া, লেয়ার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০, দেশি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রায় আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। চলতি সপ্তাহে রাজধানীতে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পোলাউয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।