November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নড়াইলে প্রবল বর্ষণে হুমকির মুখে ফসলী জমি ও মাছের ঘের

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে গত দু’দিনের প্রবল বর্ষণে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও আকাশ মেঘাছন্ন থাকায় সারাদিনে সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই সাথে তলিয়ে গেছে অনেক মাছের ঘের। এতে করে মৎস্যচাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছপালা রাস্তায় উপড়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। বৃষ্টির ফলে কাজে বের হতে না পেরে দিন এনে দিন খাওয়া এ সব মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্দশার সম্মূখীন হয়ে পড়েছে। শহরের রাস্তা ঘাট নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন অফিস আদালতে উপস্থিতির সংখ্যাও কমে গেছে আশংকাজনকহারে। বন্ধ থাকতে দেখা গেছে শহরের অনেক দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিচু গ্রামগুলো বৃষ্টির পানির প্লাবিত হয়ে পড়েছে। আকস্মিক প্লাবনে এ সব এলাকার মানুষ মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। ২৮.৫০ বর্গকিলোমিটার নিয়ে গঠিত নড়াইল পৌরসভার ২৪টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতার সৃষ্টির হয়েছে। বিশেষ করে পৌরসভার মহিষখোলা, আলাদাতপুর, দুর্গাপুর, বরাশুলা,ভাটিয়া, নয়নপুর, ভওয়াখালী, মুলিয়া, বাহিরগ্রাম, কুড়িগ্রাম, মাছিমদিয়া, উজিরপুর, বিজয়পুরসহ অন্যান্য এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না-বান্নাসহ স্বাভাবিক কাজকর্মে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌরসভার মহিষখোলার অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্য অভিযোগ করেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখন পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ হয়নি। আর যে সব এলাকায় ড্রেন রয়েছে তাও ময়লা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পানি সরতে পারছে না। কুড়িগ্রামের বুলু দান জানান, প্রবল বর্ষণে আশপাশের এলাকায় পানি জমে রয়েছে। ভেসে গেছে মাছের ঘের। মহিষখোলা এলাকার এক ব্যক্তি জানান, প্রবল বর্ষণের কারণে পানি জমে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমলেই পানি কমে আসবে। যাতে দ্রুত পানি বের করে দেয়া যায় সে ব্যাপারে জোর চেষ্টা চলছে। এদিকে প্রবল বর্ষণে নড়াইল সদর, কালিয়া ও লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাছের ঘের ভেসে গেছে। নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী, কলোড়া, শেখহাটি, বাশগ্রাম, তুলারামপুর, লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া, মল্লিকপুর, কোটাকোল, ইতনা, কালিয়া উপজেলার পিরোলী, পাঁচগ্রাম, হামিদপুর, বাবরা-হাচলা, সালামাবাদ, বাঐশোনা, জয়নগর, খাশিয়ালসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক মাছের ঘের ভেসে গেছে। যার ফলে এসব ঘেরে চাষকৃত সাদা ও চিংড়ি মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বিছালী এলাকার ঘেরচাষী সাজ্জাদ মোল্যা দাবি করেন, তাদের এলাকার অধিকাংশ ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি ঘেরগুলো নেটের জাল দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। নড়াইল জেলা সিনিয়র সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা জানান, নড়াইল জেলায় ৫হাজার ৭১৮টি মাছের ঘের রয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় সাড়ে তিন হাজার, কালিয়া উপজেলায় ২ হাজার এবং লোহাগড়া উপজেলায় ২১৮টি। প্রবল বর্ষণে কিছু মাছের ঘের ভেসে গেছে। এ ব্যাপারে মৎস্য চাষী, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এছাড়া সবজি ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাটি নরম হওয়ায় হালকা বাতাসে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। তবে কৃষি বিভাগ এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে পারেনি। বেশ কিছু স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অরক্ষিত বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে রাস্তঘাট তলিয়েগেছে। পুকুর, মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিস্তৃীর্ণ আমন আবাদ জলমগ্ন হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।