November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাসপাতালে

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। ঘরে আটকে রেখে তিনদিন ধরে গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়েছে। আর এসব অভিযোগ উঠেছে গৃহবধূর পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বিরুদ্ধে। হাসপাতালে এসেও হুমকি দিচ্ছে নির্যাতনকারী স্বামী। এমনকি তাদের তিন বছরের শিশু সন্তানকে হাসপাতাল থেকে তুলে নেয়ার ভয়ে অবুঝ শিশুটিকেও মায়ের পাশে রাখা সম্ভব হয়নি।

বিস্তারিত নড়াইল  প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাড়ে চার বছর আগে নড়াইলের দিঘলিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান শরীফের মেয়ে ফাতেমা বেগম শিখার সাথে নড়াইলের কুন্দশী এলাকার সৈয়দ সিরাজ আলীর ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আল মামুনের বিয়ে হয়। আল মামুন খুলনার আদালতে পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।

বিয়ের পর বছর খানেক সুখের জীবন কাটলেও যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ফাতেমা বেগম শিলার ওপর শুরু নির্যাতন। দাবিকৃত এই টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ার গতকাল রাতে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় ফাতেমাকে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ফাতেমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাতেমা জানান, যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী তিনদিন ঘরে আটকে রেখে রড দিয়ে পিটিয়েছে রক্তাক্ত করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের তিন বছরের শিশু সন্তান আরাফাতকেও লাথি মারে। ফাতেমার ভাই সাবু শরীফ বলেন, প্রথমে আমরা মামুনকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছি। কিছুদিন চুপচাপ থাকার পর আবারো টাকার জন্য বোনের ওপর শুরু হয় নির্যাতন।  টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ার শুক্রবার রাতে আমার বোনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। রড দিয়ে ২৫টি আঘাত করেছে। আমার বোনের মতো এমন পরিস্থিতি যেন কারোর না হয়।

মা ফুরজাহান বেগম বলেন, মামুন এতোটা লোভী আমরা আগে বুঝতে পারিনি। মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত টাকা দিয়েছি। তবুও ওর টাকার প্রয়োজন শেষ হয়নি। আমার মেয়েকে লাথি ও চোখে ঘুষি দিয়ে এবং রড দিয়ে মেরে জীবনটা প্রায় শেষ করে দিয়েছে। এ নির্যাতনের বিচার চাই। বাবা আব্দুল মান্নান শরীফ বলেন, হাসপাতালেও আমার মেয়ের চিকিৎসা ঠিক ভাবে করাতে পারছি না।

ফাতেমা ও তার শিশু সন্তানের নিরাপত্তায় পুলিশের কোনো ভূমিকা দেয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া আল মামুনকে হাসপাতাল এবং থানা এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ফাতেমার স্বজনেরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ শেখ আবুল হাসনাত বলেন, ফাতেমার শরীরে আঘাতের একাধিক চিহৃ রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। এদিকে, অনেক চেষ্টা করেও থানায় মামলা করতে পারেননি ফাতেমার বাবা, ভাইসহ স্বজনেরা। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে পুলিশ এজাহার রেখে দিলেও মামলা দায়ের করা হয়নি বলে ঢাকাটাইমসকে জানিয়েছেন ফাতেমার ভাই সাবু শরীফ। এমনকি ওসি জাহাঙ্গীর আলম ফাতেমার নির্যাতনের ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।