October 9, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ঘূর্ণিঝড় মোরা : কয়েক লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

ডেস্ক :  ঘূর্ণিঝড় মোরার কারণে ১০ নম্বর মহা বিপদসংকেত ঘোষণার পর উপকূলীয় এলাকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সূত্র জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে সমুদ্র উপকূল প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। বিকেল থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা মাইকিং করে বলা হয়েছে। মাইকিং করার পর থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে।

প্রায় ২০০ কিলোমিটার ব্যসের এই ঘূর্ণিঝড় সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ উপকূলের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরের জন্য ১০ নম্বর এবং পায়রা ও মংলা বন্দরের জন্য ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করে আবহওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরেরর পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার শক্তির ঝড়ো হাওয়া নিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোরা মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুপুরে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সন্ধ্যার মধ্যে ঝূঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনার নির্দেশ দেয়। জেলায় জেলায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তখন সংকেত কম থাকায় এবং আবহাওয়া ততটা প্রতিকূল না হওয়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ দেখাননি।

সন্ধ্যায় মহাবিপদ সংকেত জারি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেন। রাত ৮টার পর স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় বসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার কাজ আর গতি পায়।

রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহরের নুনিয়াছটা ও সমিতিপাড়া উপকূল থেকে যুব রেড ক্রিসেন্ট কক্সবাজার ইউনিটের উপ-যুব প্রধান শাহাদাত হোসেন হিমেল বলেন, সেখানে রেড ক্রিসেন্টের একাধিক দল লোকজনকে গাড়িতে তুলে শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপকূলের পরিস্থিতি তখনো স্বাভাবিক থাকায় লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে শহরে আসতে রাজি হচ্ছেন না।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত পৌরসভার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া শহরের নুনিয়াছটা, খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডীসহ উপকূলের বিভিন্ন কেন্দ্রেও হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত যানবাহনে করে উপকূলের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে।

এদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় ছনুয়া, খানখানাবাদ, গণ্ডামারাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে নারী-পুরুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন।

আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন উপকূল থেকেও রাতে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় ও নিজ উদ্যোগে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে বলে জানান রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জানে আলম।

এর আগে আজ বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকা থেকেও লোকজন সরে যায়। পতেঙ্গা সৈকতের দোকানিরা তাঁদের মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেন।

এদিকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত ঘোষণার পরই চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সময় জেটিতে জাহাজ রাখা বিপজ্জনক। কারণ, প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে জাহাজের আঘাতে জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ আশঙ্কায় জেটিতে অবস্থান করা পণ্যবাহী ২৪টি বড় জাহাজ সাগরের নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা হয়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে চার লাখ লোকের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ঘূর্ণিঝড় সামনে রেখে চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধও মজুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিকেলের মধ্যে ৩৪২ টন চাল ও ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও জরুরি সহায়তার জন্য ৬১১৫৪৫ নম্বরে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবিলায় নগরের দামপাড়ায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলায় ৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এতে ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।

বাঁশখালীর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরী বলেন, ১১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য রাতেও মাইকিং করা হচ্ছে।