আদালত প্রতিবেদক : সিটিসেলের কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি. (সিটিসেল) কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম শ্রমিকদের পক্ষে এ নোটিশ দিয়েছেন।
সিটিসেলের সিইও মেহবুব চৌধুরী, পরিচালক মোর্শেদ খান, নাসরিন খান, আসগর করিম, প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা তারিকুল হাসানসহ আটজনকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কর্মচারীদের পক্ষে আজ বুধবার ১৩টি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে পাওনা পরিশোধ না করা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে আরও ২২টি নোটিশ দেয়া হবে।
নোটিশে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর সিঙ্গাপুর হতে এক স্কাইপে কলে কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্যাসেফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেন সিটিসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল মোর্শেদ। ওই আলোচনায় ফয়সাল মোর্শেদ কর্মীদের ২০১৬ সালের নভেম্বরের পরে কোনো দায়-দায়িত্ব না নেয়ার কথা জানিয়ে দেন। আর এরপরই ডিসেম্বরের শুরু হতে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের ব্যবধানে অপারেটরটির স্থায়ী অস্থায়ী মিলে তিন শতাধিক কর্মী চাকরি ছেড়ে যান। পরবর্তীতে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ কর্মীই চাকরি ছেড়ে দেন। ওই বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে প্রথম দফায় বকেয়া দুই মাসের বেতন পান সিটিসেলের অনেক স্থায়ী কর্মী। আর ডিসেম্বরের ২২ তারিখ সময়ে অনেকে পান বাকি তিন মাসের বকেয়া বেতন, দুই ঈদের বোনাস, রিক্রিয়েশন লিভের ভাতাসহ বিভিন্ন পাওনা। সেই সময় অপারেটরটির পিয়ন, ড্রাইভার, অফিসার, সিনিয়র অফিসার, এক্সিটিউভ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এবং ডেপুটি ম্যানেজার পদের কর্মী মিলে প্রায় ২০০ জন আলোচনা অনুযায়ী বকেয়া পেয়েছেন। যদিও দুই বছরের (২০১৫-১৬) প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ কাউকেই দেয়া হয়নি।
অন্যদিকে ডেপুটি ম্যানেজার পদের কয়েকজনসহ ম্যানেজার, ডিজিএম, জিএম হতে ঊর্ধ্বতন পদগুলোর কর্মকর্তাদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। এই সংখ্যা ৬০ জনের বেশি। এছাড়া অস্থায়ী আউটসোর্স করা কর্মীদের মধ্যে ই-জোনের ৭০ জন পাওনা পরিশোধের শর্তে চাকরি ছেড়েছিলেন। তখন সিটিসেলের সঙ্গে ই-জোনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার এক মাস আগেই এসব কর্মীদের বিদায় দেয়া হয়। এই কর্মীদের ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দুটি স্যালারি এবং ২৯ জানুয়ারিতে তিন মাসের স্যালারিসহ রিক্রিয়েশন লিভ ও একটি ঈদ বোনাস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তারা তা পাননি।
গত বছরের ২০ অক্টোবর বিটিআরসি সিটিসেলের স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করে দিলে সিটিসেল সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। আপিল বিভাগ বিটিআরসিকে স্পেকট্রাম খুলে দেয়ার আদেশ দেন। ৬ নভেম্বরে সিটিসেলের স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। খুলে দেয়া হয় অপারেটরটির নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি)।
১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স পায় সিটিসেল। তবে অপারেটরটি ১৯৯৩ সাল হতে সেবা দিতে শুরু করে। দেশে একমাত্র সিডিএম (কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস) অপারেটর সিটিসেল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে গ্রাহক হারাতে শুরু করে সিটিসেল। কয়েক বছরে ১০ লাখের বেশি গ্রাহক হারায় অপারেটরটি। সিটিসেলের ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরের টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা কোম্পানি সিংটেল। আর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মোর্শেদ খানের প্যাসিফিক মোটরর্সের রয়েছে ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফার ইস্ট টেলিকমের।

এ বিভাগের আরো..
জেলে বসেই ভিওআইপি’র ব্যবসা থেকে টাকা লুটছেন সালমান এফ রহমান
বিচারক-আইনজীবীদের কালো কোট-গাউন পরতে বাধ্যবাধকতা নেই।
ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন ও ৩ জনের সশ্রম কারাদন্ড