ডেস্ক: টেলিসামাদ,একসময় কমেডিয়ান বললেই চলে আসত তাঁর নাম। সমানতালে অভিনয় করেছেন সিনেমায়, টেলিভিশনে। পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। সবাইকে হাসিয়েছেন যিনি, জীবন সায়াহ্নে এসে অভাব- জরা- ক্লান্তি আর একাকীত্ব মিলিয়ে দারুন অবসাদগ্রস্থ সেই কৌতুক সম্রাটের মুখেই নিভে গেছে হাঁসি।
বাংলা চলচ্চিত্রের দুর্দান্ত কৌতুকঅভিনেতা একাধারে টিভি নাটক এবং মঞ্চের শক্তিমান অভিনেতা তিনি। ৭০ দশক থেকে তাকে পর্দায় দেখেছেন দর্শকরা। এ যাবৎ অসংখ্য চলচ্চিত্র-নাটকে নানা ধরনের চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে দারুণভাবে। নিজের অভিনয় শৈলি দিয়ে দর্শকদের বিনোদন ও হাসিতে সারাক্ষন মাতিয়ে রাখতেন।
নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালের দিকে ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এই অঙ্গনে পা রাখেন এই অভিনেতা। তবে তিনি দর্শকদের কাছে যে ছবিটির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সেটি হলো ‘পায়ে চলার পথ’। এরপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন। বর্তমানে এই অভিনেতা অসুস্থ হয়ে ঘরে শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রায় ছয় শতাধিক ছবিতে কাজ করা এই অভিনেতা বলেন, ‘এটা সত্যি যে আগের চেয়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা বেড়েছে। কিন্তু একটা ছবির কাজ করতে গেলে, সেই চরিত্রে ঢুকতে গেলে সেটা নিয়ে স্টাডি করতে হয়। আমাদের সময়ে এটা করতাম। কিন্তু এখন কেউ করে না বললেই চলে! সে কারণে অনেকের অভিনয় হয় না।’
নিজের অবস্থা সম্পর্কে দুঃখ করে টেলিসামাদ জানান, ‘ আমি ভালো নেই। এখন কথা বলতেও কষ্ট হয়। দিনের পর দিন অসুস্থ হয়ে ঘরেই দিন কাটছে আমার। দুই বছর আগে অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিতে সর্বশেষ কাজ করেছিলাম।এই অভিনেতা। অভিনয়ের বাইরে লেখালিখি, গান ও ছবি আঁকার প্রতিও প্রবল ঝোঁক রয়েছে টেলিসামাদের। কয়েকদিন আগে নিজেই একটি নাটক নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
অসুস্থতার পর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক অনুদানের পর ২০১৪ সালের ২০ মে আমেরিকায় যান টেলিসামাদ। দীর্ঘ চার মাস নিউ ইয়র্কে অবস্থান করার পর ২৫শে সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেন। এরপর ২০১৫ সালের অক্টোবরে তার পায়ের বুড়ো আঙুলে একটি ক্ষত দেখা দেয়। ওই বছরের ১৮ই অক্টোবর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু শারীরিকভাবে আর সুস্থ হতে পারেননি।
আলাপকালে আক্ষেপ ফুটে উঠে অসুস্থ্য এই অভিনেতার চোখে মুখে । টেলি সামাদ বলেন, ‘সবাই এখন টাকার পিছনে ছুটছে। কীসের শিল্প, কীসের আর্ট! ফেসবুকে খোলামেলা ছবি প্রকাশ করে আলোচনায় আসছে, তারকা খ্যাতি, গাড়ি-বাড়ি হাঁকাতে চাচ্ছে! দিন শেষে দেখা যাচ্ছে এরা হারিয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এত সংকট। পত্রপত্রিকার মারফাত জানছি, এখন এক নায়কনির্ভর আমাদের ইন্ডাস্ট্রি। একজন নায়ক কখনও একটা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। তাই আমাদের শিল্পী দরকার। এছাড়া আমি মনে করি আমাদের সিনিয়র শিল্পীদের আবার চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করা উচিত। তারা ফিরলে চলচ্চিত্রের অনেক সংকট দূর হবে।’
টেলি সামাদ একসময় তুমুল ব্যস্ত ছিলেন অভিনয়ে। কিন্তু এখন আর কোনো ছবিতে কাজ করছেন না। তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় ‘জিরো ডিগ্রী’ (২০১৫)। সারাদিন বাসায় থাকেন। টিভি দেখেন, ছবি আঁকেন।
টেলিসামাদ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা অনেক আগের কথা। বিটিভির ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন ভাই এ নামটা দিয়েছিলেন। বিটিভি থেকে একদিন আমার বাসায় চিঠি আসলো আমাকে সেখানে যেতে হবে। সেখানে উপস্থিত হতেই মামুন ভাই বললেন, তোমার নাম আজ থেকে আবদুস সামাদ বাদ দিয়ে টেলিসামাদ। সেই থেকেই আমি হয়ে গেলাম টেলিসামাদ। আরো অনেক কথা জমা আছে টেলিসামাদের মনে। তবে বার বারই বলছিলেন, কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে। শেষের দিকে ভেজা চোখে অস্ফুস্ট কন্ঠে জানালেন, ‘ আর কথা বাড়াতে চাই না। আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছি। ”

এ বিভাগের আরো..
বসন্ত আসবে প্রাণের মেলায়
সানবিট ও হারল্যান স্টোরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর পরীমনি
সন্ধ্যায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী