ডেস্ক : ১৯৭১ সালের মার্চে মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্ন থেকে দখলদার পাকিস্তান বাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু করে। আর ওই সময় রংপুরের সাধারণ মানুষসহ বুদ্ধিজীবীরাও হত্যাকান্ডের শিকার হন।
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ রংপুরের বীর সন্তানেরা যখন কারফিউ ভেঙ্গে মিছিল বের করে তখন পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা ভয় পেয়েছিল। ওই দিন জীবন দেন- শঙ্কু সমাদ্দার, আবুল কালাম আজাদ এবং ওমর আলী।
স্বাধীনতার স্বপক্ষে রংপুরের জনগণের অনমনীয় অবস্থান ও বীরত্বকে দমাতে পরিকল্পিতভাবে রংপুরের নিরীহ সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবীদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা শুরু করে দখলদার পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের দোসররা।
বিশেষত, অবাঙ্গালী বিহারি দালালদের সহযোগিতায় পাক বাহিনী নিরীহ বাঙ্গালীদেরকে রংপুর সেনানিবাসে ধরে নিয়ে যেত এবং অকথ্য অত্যাচার ও নির্মম শারীরিক নির্যাতন করত।
রক্ত পিপাসু পাক সেনারা ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল বাঙ্গালীর মেধাবী সন্তানদের অল্প সময়ের জন্য দাখিগঞ্জ শ্মশানঘাটে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করে।
তাদেরই মধ্যে সৌভাগ্যবান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ডা. দীনেশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে মন্টু ডাক্তার প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদের সাথে তাকেও গুলি করা হয়। তার শরীরে আটটি গুলি লাগে, গুরুতর আহত হলেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।
পরে প্রতিবেশী ভারতে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে তিনি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন।
ওইদিন যে দশজন শহীদ হন, তারা হলেন : এ্যাডভোকেট মাহবুব আলী জর্জেস, দুর্গাদাস অধিকারী, ধীরেন্দ্রনাথ শান্তি চাকী, ক্ষীতিশ হালদার, গোপাল চন্দ্র, ইহসানুল হক দুলাল, তোফাজ্জল হোসেন মহররম, রফিকুল ইসলাম, উত্তম কুমার অধিকারী এবং পাগলা দরবেশ।
এ ব্যাপারে বাসস’র সাথে আলাপকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা শাখার সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু বলেন, দখলদার পাক বাহিনী ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল রংপুরের দশজন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
তিনি বলেন, ‘৭১-এর ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া তৎকালীন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা এবং কারফিউ জারি করলে রংপুরের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ৩ মার্চ থেকেই দেশের স্বাধীনতার দাবিতে তারা মুক্তিযুদ্ধে সামিল হন।
২৭ মার্চ তারিখে ১১ জন বুদ্ধিজীবীকে রংপুর সেনানিবাসে ধরে নিয়ে যায়। তাদের মুক্ত করতে পরদিন ২৮ মার্চ প্রায় ৩০ হাজার স্থানীয় জনগণ রংপুর সেনানিবাস ঘেরাও করার চেষ্টা করে। এসময় নিসবেতগঞ্চে পাক বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় প্রায় ছয়শ’ মানুষ।
এ ঘটনার পর রংপুরে মুক্তিযুদ্ধ আরও ব্যাপক রূপ লাভ করে।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়মাস পাকিস্তান বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর ও অবাঙ্গালী বিহারিরা সাধারণ বাঙ্গালীদের পাশপাশি জাতির মেধাবী সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ডে মেতে ওঠে।
উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাসবিদ এবং গবেষকদের মতে, বাঙ্গালী জাতিকে মেধা বা প্রতিভা শূন্য করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়।
সূত্র: বাসস

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত