October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

১২০০ কোটি টাকা নিয়ে আপিলের রায় বৃহস্পতিবার

ডেস্ক: সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা ১২শ’ কোটি টাকা ফেরত দেয়া হবে কিনা- সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ)।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে রায় ঘোষণার ধার্য করেন আদালত।
আদালতে টাকা ফেরতের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া ১২শ’ কোটি টাকা ফেরত দিতে ২০১০ ও ২০১১ সালে পৃথক নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ একত্রে এসব বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং তৎকালীন যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেলের (টিএফআই) কর্মকর্তারা প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক হাজার ২৩২ কোটি টাকা আদায় করেন। এ টাকা দুই শতাধিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ০৯০০ নম্বর হিসাবে জমা হয়।
জানা গেছে, ১/১১ সরকার ২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিল জেমস ফিনলের কাছ থেকে আদায় করে ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ওই টাকা ১৬টি পে-অর্ডার বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের কনসোলিটেড ফান্ডে প্রথম জমা দেয়া হয়। এরপর ২২ এপ্রিল একই প্রতিষ্ঠানের নামে ১৫টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে আরও ১২০ কোটি ২৪ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়। একই প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমে দেড় বছর ধরে বিভিন্ন তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের সংশ্লিষ্ট হিসাবে টাকা জমা হয়। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ছাড়াও ‘অজানা’ উল্লেখ করেও চার দফায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা জমা হয়। দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করা হয় ওই সময়।
২০০৭ সালের ২৮ মে থেকে ২০০৮ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে ২৫৬ কোটি টাকা নেয়া হয়। ২০০৭ সালের ১৯ জুন থেকে একই বছরের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মিসেস পারভীন হক সিকদার বাধ্য হয়ে সিকদার গ্রুপের পরিচালক ও সদস্যদের পক্ষ থেকে ৯টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে মোট ৪২ কোটি টাকা পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আরও যাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ৩০ কোটি, এমজিএইচ গ্রুপের ২৪ কোটি, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের কাছ থেকে ২০ কোটি, কবির স্টিল থেকে সাত কোটি, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন থেকে ৩২ কোটি ৫০ লাখ, সাগুফতা হাউজিং থেকে দুই কোটি ৫০ লাখ, হোসাফ গ্রুপ থেকে ১৫ কোটি, পারটেক্স গ্রুপ থেকে ১৫ কোটি, স্বদেশ প্রপার্টিজ থেকে ৯ কোটি, ইসলাম গ্রুপ থেকে ৩৫ কোটি, কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৮ কোটি, ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের কাছ থেকে ১৭ কোটি, আবু সুফিয়ানের কাছ থেকে ১৪ কোটি, শওকত আলী চৌধুরীর কাছ থেকে ৬ কোটি, আশিয়ান সিটি থেকে ১ কোটি, পিংক সিটি থেকে ৬ কোটি ৪১ লাখ, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কাছ থেকে ১৫ কোটি, ওয়াকিল আহমেদের কাছ থেকে ১৬ কোটি, এবি ব্যাংক ফাউন্ডেশন থেকে ৩২ কোটি, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের কাছ থেকে ২০ কোটি ৪১ লাখ, এলিট পেইন্ট থেকে ২৫ কোটি ৪৪ লাখ, এবি ব্যাংক থেকে ১৯০ কোটি, কনকর্ড রিয়েল এস্টেট থেকে ৭ কোটি, জনৈক মালিকের কাছ থেকে চার কোটি এবং ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর কাছ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। জনশক্তি রফতানিকারক ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলীর কাছ থেকে ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকাও আদায় করা হয়।