November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে দহরম-মহরমকারীদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া ভাল’

ডেস্ক : সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে দহরম-মহরম করে তাদের পাকিস্তান চলে যাওয়া ভাল। তারা চলে গেলে আমার বাবা বেহেস্তে আছেন তার আত্মা শান্তি পাবে, আমার মার আত্মা শান্তি পাবে।সকল শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।’

শনিবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদে২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনিএসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা এ দেশের রাস্তাঘাট চিনত না তাদেরকে চিনিয়েছে? ওই রাজাকার-আলবদররাচিনিয়েছে।তারা বাঙ্গালিদের হত্যা করেছে। নারীদের রেপ করেছে। তাদের বিচার এদেশে হচ্ছে, আগামীতেও হবে।

সংসদ নেতা বলেন, শেরপুরের একটি গ্রামের নাম সোহাগপুর, সে গ্রামের নাম হয়েছে বিধবাপুর। ওই গ্রমের মেয়েদেরকে রেপ করা হয়েছে। আলবদর-রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের ক্যাম্পে নিয়ে বাঙ্গালি নারীদের রেপ করত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কিছু দালালা আছেতাদের কথা শুনে আমার নিজের লজ্জা লাগে। এই দালালরা দেশের ইতিহাস বিক্রিত করে।

জেড এ খানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তার চাকরি শেষের দিকে। আমার হাত দিয়ে মেজর জেনারেল হয়েছিল। তার একটি বইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস বিক্রিত করা হয়েছে। সে বলেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নাকি ইন্ডিয়ার ‘র’ এর একটিচক্রান্ত। আমি এ মেজর জেনারেলকে বলতে চাই। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে তিনি মেজর জেনারেল হতে পারতেন না। আমার হাতে আপনিমেজর জেনারেল হয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এ দেশে এখন মাথা চাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদেরে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ২৫ মার্চে এত বড় একটি গণহত্যা হয়েছে, এটা তারা অস্বীকার করে। তারা শহীদদেরঅস্বীকার করে। আরে ইয়াহিয়া খানই তো বলেছিলেন ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা কর, বাঙ্গালিঠান্ডা হবে। বাংলাদেশ কি তার কথায় ঠান্ডা হয়েছিল। বরং ইয়াহিয়া খানকঠিনভাবে মূত্যু বরণ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি চায় না বাংলাদেশ ভালভাবে চলুক। মাথা উঁচু করে দাড়াক এটা তারা চায় না। আমিচাই ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন হোক।আমি কিছু ফুটেজ এখানে দেখিয়েছি কিভাবেপকিস্তানিরা বাংলাদেশের উপর হামলা করেছে। এটা তো সামান্য ফুটেজ, পৃথিবীর অনেক দেশে আমাদের অনেক ফুটেজ রয়ে গেছে।

সমাপনী বক্তব্যে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের কিছু দাবির জবাব দেন প্রধামন্ত্রী। চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, চাকরির বয়স ৩০ বছর রয়েছে। ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে। মাস্টার্স পাস হতে ২৩ বছর লাগে। না হয় আরও এক দুই বছর বেশি লাগে। বিএনপির আমলে সেশন জট ছিল। আমরা তো তা কমিয়ে এনেছি। বর্তমানে সেশন জট নাই। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।