ডেস্ক : সদর উপজেলায় সবজি খ্যাত চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর এলাকার উৎপাদিত বিষমুক্ত বাঁধাকপি বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এখনাকার বাঁধাকপি সুনামের কারণেই বিদেশিদের প্রতিনিধিরা তা কিনে সেখানকার বাজারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তাই চাষীরা বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে প্রতি পিচে ৪ টাকা ৫০ পয়সা করে বেশি দাম পাচ্ছেন। ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় দারুণ খুশি চাষীরা।
তারা বলেছেন, প্রতি বিঘা বাধা কপি উৎপাদনে তারা ১৪ হাজার টাকা খরচ করে ৪০ হাজার টাকার কপি বিক্রির আশা করছেন। আব্দুলপুর এলাকার চাষীরা নিজেরাই বাঁধাকপির চারা উৎপাদন করেন। পরে কপির চাষ করেন নিজেদের ক্ষেতে। যে কারণে এখানকার বাঁধাকপির সুনাম রয়েছে দেশ জুড়ে। আর এ সুনামের কারণেই বিদেশিরা এখানকার উৎপাদিত বিষমুক্ত বাঁধাকপি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আব্দুলপুর এলাকায় গিয়ে চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এশিয়ান ভেজিটেবল রিচার্জ সেন্টার ও ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা এইড (এডিআরডিসি)/ইউএসএআইডি) প্রজেক্টের মাধ্যমে তারা বাঁধাকপি বিদেশে বিক্রি করছেন। আর এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২য় শস্য বহুমুখী প্রকল্প চাষীদের সার্বিক সহায়তা করছে। চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, এ প্রজেক্টের আওতায় আব্দুলপুর মাঠে ৩৩ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন চাষীরা। এ চাষ সম্পূর্ণভাবে বিষমুক্ত করা হয়েছে। কীটপতঙ্গ ধ্বংস করার জন্য কপি ক্ষেতে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদের ব্যবস্থা আছে।
আরো জানা গেছে এ প্রজেক্টের আওতায় আব্দুলপুর গ্রামের রওশন আলী ২ বিঘা,শহিদুল ইসলাম ১ বিঘা , জাকির হোসেন ১ বিঘা, আসাদুজ্জামান ১ বিঘা, কেরামত আলী ১ বিঘা, আব্দুল আলিম ২৫ কাঠা, আব্দুল হোসেন ১০ কাঠা ও শফিকুল ইসলাম ১০ কাঠা জমিতে বাঁধাকপি চাষ কওে তারা লাভবান হচ্ছেন।
কৃষক রওশন আলী ও শহিদুল ইসলাম জানান, প্রজেক্ট কর্মকর্তারা চাষীদের প্রতি ১ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করার জন্য চারা খরচ বাদে কিছু টাকা অগ্রিমও দিয়েছিলেন। বিদেশে কপি সরবরাহের জন্য তাদের সাথে চুক্তি হয়। তারা আরো জানান, ক্ষেতে চারা রোপন করার পর থেকেই বিষমুক্ত বাঁধাকপি উৎপাদনে তাদের কয়েক দফা টেনিং দেয়া হয়। এতে তারা সফল হয়েছেন।
সবজি চাষী জাকির হোসেন ও কেরামত আলী জানান, ২০১৭ শুরুতেই প্রথম দফায় সাড়ে ১৭ হাজার পিচ বাঁধাকপি বিদেশে পাঠানো হয়। পরে আরো ৪ দফায় পাঠানো হয়েছে ৫৯ হাজার পিচ। তারা বলেন, বর্তমানে তাদের উৎপাদিত বাঁধাকপি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বাজারে সুনাম ছড়িয়েছে বলে তারা জানতে পেয়েছেন। তারা আরো জানান, বিদেশীদের প্রতিনিধি হিসেবে খুলনার খোকন মিয়া ক্ষেতে এসে বাঁধাকপি কিনে বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
চাষী আজিম হোসেন, আসাদুজ্জামান, আব্দুল আলিম জানিয়েছেন, বিদেশে পাঠানো এ বাঁধাকপি তারা প্রতি পিচ বিক্রি করছেন ৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বর্তমানে এ অঞ্চলের বাজারে পাইকারী দরে প্রতি পিচ বাঁধাকপির দাম দেয়া হচ্ছে ৩/৪ টাকা করে। বিদেশে কপি রপ্তানি করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এতে চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
এ প্রজেক্টের আওতায় চাষীরা বিঘা প্রতি বাঁধাকপি উৎপাদনে ১৪ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এখন তারা ৪০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন।
বাঁধাকপি ক্ষেতে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ থাকলে কীটনাশকের ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। এ ফাঁদ নানা কীটপতঙ্গ ধ্বংস করতে সক্ষম। এ ফাঁদ রাতের বেলা জোনাকি পোকার মতো জ্বলে।
যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, এ পর্যন্ত আব্দুলপুর এলাকা থেকে উৎপাদিত ৬৪ মেট্রিকটন বাঁধাকপি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বাজারে রপ্তানি করা হয়েছে। আর ক’দিন পর ক্ষেতের কপি কাটা হলে সেগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে। এখানকার বাঁধাকপি বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। আগামীতে বিষমুক্ত কাঁচা মরিচ, পটল ও শিম কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিদেশিরা।
সূত্র: বাসস

এ বিভাগের আরো..
দেশীয় পণ্যে আস্থা অর্জনে মান নিশ্চিতে গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের
তেঁতুলিয়ায় আই এফ আই সি ব্যাংকের উদ্যোগে আর্থিক স্বাক্ষরতা দিবস
বগুড়া যমুনা চরে বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা