ডেস্ক : ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদীয় বিতর্কে বিজয়ী হয়েছে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি। শনিবার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামে আয়োজিত বছরব্যাপী এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেশের স্বনামধন্য ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানারআপ ও তৃতীয়স্থান অধিকার করে যথাক্রমে ইবাইস ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টের গ্রান্ড ফাইনালে দুর্নীতিবিরোধী ছায়া সংসদে রাজনৈতিক সচেতনতা নাকি জনসচেতনতা দুর্নীতি রোধ করতে পারে- এ নিয়ে বিতার্কিকরা তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।
শনিবার রাজধানীর বিএফডিসিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে বিতার্কিকদের ট্রফি, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারী দলকে যথাক্রমে এক লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকা এবং ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বক্তারা হলেন- হাফিজ উদ্দিন মুন্না, জহিরুল হক, জোবায়ের সর্দার মার্জিন এবং রানারআপ দল ইবাইস ইউনিভার্সিটির বক্তারা হলেন- রিয়াজুল ইসলাম, অনিতা ইসলাম এবং মাসুদ সিকদার।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, টিআবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমএ সবুর।
অনুষ্ঠানে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জনসচেতনতা, ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। রাজনীতিবিদরা যদি সত্যিকার অর্থে চান তাহলে যে কোনো মুহূর্ত থেকে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে জনগণকেও সম্পৃক্ত হতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক সার্বিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুদক দুর্নীতি প্রতিরোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতার উপরও জোর দিচ্ছে।’
তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধকে দ্বিতীয় যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেন। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সবাই মিলে যুদ্ধ ঘোষণা করলে দুর্নীতিবাজরা পালিয়ে যাবে। তিনি ঘুষদাতা ও গ্রহীতাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনসচেতনতা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের নজির নেই। দুর্নীতি দমনে কঠিন আইন প্রণয়নসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের সর্বত্র দুর্নীতিবিরোধী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তাদের যদি শাস্তি দেওয়া না যায় তাহলে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম সফল হবে না। দুর্নীতিকে জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম এবং প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি। এই দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হলে গণতন্ত্র বজায় রেখে সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রচুর সম্ভাবনার এ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সরকারসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে এখনো বেরিয়ে আসতে পারছি না। তাই ভবিষ্যতে যারা দেশের নেতৃত্ব দেবে তাদের সচেতন করা এবং সৎ ও সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করার জন্যই আমরা এ ধরনের আয়োজন করে থাকি।’
বিশেষ ট্রাইবুনালের আওতায় এনে দুর্নীতিবাজদের বিচারের দাবি করেন তিনি।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমএ সবুর বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতা একটি অপরটির পরিপূরক। রাজনীতিবিদরাই দেশ গঠনে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা জনগণের প্রতিনিধি। তাই তাদের জনগণের কথা বলা উচিত। কিন্তু আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখেছি ব্যাংকিং সেক্টরে বড় বড় দুর্নীতির সঠিক কোনো বিচার হয়নি।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল ও এটিএন বাংলার উপদেষ্টা নওয়াজীশ আলী খান।

এ বিভাগের আরো..
নাজমুল সভাপতি ও সুমনকে সম্পাদক করে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি
গরীব শিক্ষার্থীদের মিল বন্ধ থাকায় স্কুলে অনাগ্রহ
বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিহত ৯ শিশুর স্মরণে শোক র্যালী