October 11, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নূহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী

ডেস্ক: বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গাজীপুরের নূহাশপল্লীতে রবিবার (১৩ নভেম্বর) পালিত হয়েছে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে শনিবার (১২ নভেম্বর) রাতে নূহাশপল্লীতে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। হুমায়ূন আহমদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন রবিবার ভোরে ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নূহাশপল্লীতে আসেন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। পরে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের কেক কাটেন শাওন। এসব অনুষ্ঠানে নূহাশপল্লীর কর্মচারীরাও অংশ নেন।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে হুমায়ূন আহমেদের ভাই অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, ছোট ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব এবং তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা নূহাশপল্লীতে আসেন এবং কবর জিয়ারত করেন।

এ সময় মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের মত লেখকেরা কখনো চলে যান না। তারা সব সময় থাকেন পাঠকের হৃদয়ে, ভক্তদের হৃদয়ে। হুমায়ূন আহমেদ খুব সহজভাবে জন্মদিন পালন করতেন। জন্মদিনে আমরা আসলে খুশি হই। হুমায়ূন আহমেদ জন্মদিন আসলে আনন্দটা শেয়ার করতেন, অন্যের আনন্দটা নিজের সঙ্গে শেয়ার করতেন।’

ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের বই মানুষ যতোদিন পড়বে, ততোদিন হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবে। কাজেই হুমায়ূন আহমেদকে আলাদাভাবে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা আমাদের কাউকে করতে হবে বলে আমার মনে হয় না। তবে তাকে নিয়ে অনেকে বাণিজ্য করছে। ওই বাণিজ্যটা সঠিকভাবে করছে কি না সেটা খেয়াল রাখা দরকার।’

তিনি আরো বলেন, হুমায়ূন আহমেদের শূন্যতা আমরা খুব অনুভব করি। তিনি শুধু আমাদের হুমায়ূন আহমেদ না, বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের হুমায়ূন আহমেদ। সবাই তার অভাবটা অনুভব করছে।’

এদিকে সকাল থেকেই হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা নূহাশপল্লীতে আসেন। তাদের অনেকেই প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আবার অনেকে ঘুরে ঘুরে দেখেন নূহাশপল্লী।

উল্লেখ্য, লেখক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে আমেরিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে ২৪ জুলাই গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকার নূহাশপল্লীর লিচুগাছ তলায় হুমায়ূন আহমেদকে দাফন করা হয়।