October 11, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ভারতীয় রুপি ফেরত দেবে বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : সদ্য বাতিলকৃত ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট এখন শুধুই অলস। এই নোট ভারতকে ফেরত দেবে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ৫০০ ও ১০০০ মূল্যমানের ১১ লাখ রুপি রয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের কাছে আছে ৪ লাখ রুপি।  এছাড়া অগ্রণী ও রুপালী ব্যাংকের কাছে আছে ৩ লাখ রুপি করে। বাকি এক লাখ আছে জনতা ব্যাংকের কাছে।
জনতা, অগ্রণী ও রুপালী ব্যাংক তাদের কাছে থাকা রুপি জমা দেবে সোনালী ব্যাংকের কাছে। এরপর সোনালী ব্যাংক শিলিগুড়ি শাখার মাধ্যমে এই অর্থ এক্সচেঞ্জ করবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে সোনালী ব্যাংককে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় সাধারণত ট্রাভেল কোটায় অনেকে রুপি নিয়ে থাকেন।  ট্রাভেল কোটায় খুব বেশি পরিমাণ রুপি নেওয়া যায় না। ফলে দেশে  বৈধ রুপির পরিমাণ বেশি না। বাতিলকৃত ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বিনিময় (এক্সেচঞ্জ) করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ।
তবে অবৈধ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতদের কাছে যদি রুপি থেকে থাকে- সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করণীয় নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ সূত্রে জানা যায়,  কোনো ব্যাংক, মানি চেঞ্জার ও ব্যক্তির কাছে এ ধরনের অর্থ থাকলে তা বাংলাদেশে বসেই পরিবর্তন করা সম্ভব। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৪৭ এর ৮(২) ধারা অনুযায়ী ব্যাংক, মানি চেঞ্জার প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা রপ্তানি  করতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অনাপত্তি নিতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক, মানি চেঞ্জার ও ব্যক্তির কাছে ভারতীয় মুদ্রা রয়েছে। চিকিৎসা, ব্যবসা, বেড়ানো ও কেনাকাটার জন্য ব্যাপকসংখ্যক বাংলাদেশি ভারত যান। ব্যবসা ও নিয়মিত যাতায়াতের কারণে অনেকের কাছেই ভারতীয় মুদ্রা রয়েছে। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত বছর মোট পর্যটকদের ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি।  দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত হাট থাকায় সেখানে সরাসরি বাংলাদেশ-ভারতের নোট লেনদেন হয়।