November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রিজার্ভ প্রবৃদ্ধিতেও রেমিট্যান্স কমছে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক পতন চলছেই। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। আর একক মাস হিসেবে শুধু গত অক্টোবরে কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। ডলারের বিপরীতে বিভিন্ন দেশে মুদ্রার মূল্যমান হ্রাস, তেলের দাম কমার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়া এবং অবৈধ চ্যানেল ব্যবহার করে দেশে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়াসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্স কমছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্স আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৪ কোটি ডলার যা মোটের ৫৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে ১৮১ কোটি ডলার বা ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স আয়ের ৫৭ শতাংশ এসেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে। তার আগের অর্থবছরে এসেছিল ৫৯ শতাংশ।
জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধির পরও রেমিট্যান্স কমার কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক থাকেন এমন অধিকাংশ দেশের মুদ্রামান ডলারের বিপরীতে কমেছে। এতে করে আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠালেও ডলারে রূপান্তরের পর তা কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া তেলের দাম কমার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শ্রমিকদের আয় কমেছে। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্স কিছুটা কমছে। তবে পরিস্থিতি এমন থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।
প্রবাসী আয় অনেক কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে প্রায় নয় মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। মূলত আমদানির তুলনায় রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে প্রচুর বিদেশি ঋণ আসা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্স কমার পরও রিজার্ভ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা ৪২৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫০৩ কোটি ডলার। আগের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, যা ১৫ শতাংশ। একক মাস হিসাবে গত অক্টোবরে ১০১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি ডলার। এতে একক মাস হিসাবে অক্টোবরে কমেছে আট কোটি ৭৫ লাখ ডলার যা ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় কমেছে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত অর্থবছর প্রবাসীরা এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৩৯ কোটি ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম ।
অবশ্য প্রবাসী আয় এভাবে ধারাবাহিকভাবে কমলেও জনশক্তি রফতানি বাড়ছে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছয় লাখ ৮৪ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন দেশে গেছেন। আগের অর্থবছরে যান চার লাখ ৬১ হাজার শ্রমিক। এক বছরে শ্রমিক বেশি গেছেন দুই লাখ ২৩ হাজার জন।
বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স কমার একই রকম কারণ তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, জ্বালানি তেলের নিম্ন মূল্যের কারণে নির্মাণ খাতে নেতিবাচক প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়েছে। বেকারত্ব বাড়ার পাশাপাশি মজুরি কমে যাওয়া অথবা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সঞ্চয় কমছে, যা রেমিট্যান্স কমার অন্যতম কারণ।
এদিকে মুদ্রার মূল্যমান ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির খারাপ অবস্থার পাশাপাশি হুন্ডি প্রবণতা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ব্যাংকাররা।