ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের বল্লাল বাড়ি এলাকায় সুবর্ণা (৬) নামে এক শিশুকে পালক হিসেবে এনে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পালক মা কল্পনার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে নির্যাতিত শিশুটিকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে দেয়।
পালক হিসেবে নিলেও শিশুটির সঙ্গে গৃহকর্মীর মতো আচরণ করত সিরাজ দম্পতি। বুধবার (২ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ওই এলাকার সিরাজ মিয়ার বাড়ি থেকে সুর্বণাকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।
দিনের পর দিন শিশু সুবর্ণাকে অমানুষিক নির্যাতন করে আসছে গৃহকর্ত্রী কল্পনা বেগম। শিশুটির শরীরে আগুনের ছ্যাকা ও চোখে-মুখে মারধরের ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ভয়, আতঙ্ক আর চোখ ছলছলে এদিক-ওদিক তাকিয়ে শিশুটি বলে, তারা (সিরাজ মিয়া ও কল্পনা) দুইজনই মারত আমাকে।
হাতে কিভাবে ক্ষতচিহ্ন হয়েছে জানতে চাইলে শিশুটি উত্তরে জানায়, ‘আম্মু (কল্পনা বেগম) কামড়াইছে।’
বুধবার শিশু সুবর্ণাকে অমানুষিক নির্যাতন করার এক পর্যায়ে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুকে।
এ ব্যাপারে গৃহকর্ত্রী কল্পনা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে আমি মারব, কাটব আপনাদের কি? হউক সুবর্ণা আমার পালক মেয়ে।
সদর থানার ওসি মো. ইউনুচ আলী জানান, ওই শিশু গৃহকর্মী এখন সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নির্যাতনকারী গৃহকর্ত্রী কল্পনা বেগমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটিকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। শিশুর বাবাকে পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, মা ভারতী মারা যাওয়ার পর শিশু সুবর্ণাকে সিরাজ মিয়ার স্ত্রী কল্পনা বেগম পালক আনে। পরে ওই বাড়িতে পালক সুবর্ণা সিরাজ মিয়ার বাড়ির গৃহকর্মী হয়ে উঠে।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, শিশু সুবর্ণাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া দরকার। নয়তো বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এ বিভাগের আরো..
রায়গঞ্জে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
যমুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৩ জনের জরিমানা
নওগাঁয় জাল ভোট দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক ২