October 13, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সাভারে সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, এলাকায় উত্তেজনা

ডেস্ক : সাভারে একটি হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে আদিবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি উচ্ছেদ ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন। এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। মঙ্গলবার সকালে বিরুলিয়া ইউনিয়নের মৈস্তাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবাদে আদিবাসী হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকশ’ নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিলসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। বিষয়টি জানিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আদিবাসীরা জানান, দক্ষিনা সিটির মালিক কর্নেল আজম খান (অব.) ও তার স্ত্রী মুনা হক জোর করে তাদের বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে তারা ৩ বছর আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এখন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টার পাশাপাশি সংখ্যালঘু আদিবাসীদের উচ্ছেদের জন্য লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে দক্ষিনা সিটি।

বিরুলিয়া ইউনিয়নের মৌস্তাপাড়া আদিবাসী বহুমুখী কল্যাণ সমিতির সভাপতি পরিমল বনুয়া জানান, সে ও তাদের পূর্ব পুরুষেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রায় দুইশ’ বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছেন। তাদেরকে ওই এলাকায় বসবাস করার জন্য জমিটি দেন তখনকার নবাব বাহাদুর। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন তারা। তাদের পূজা অর্চনার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দুর্গা মন্দির, কালি মন্দির ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করে দেওয়া হয় ওই জমিতেই। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে মাসে দেওয়া সাহায্যে সমিতির নামে একটি মিনিবাসও রয়েছে। সবকিছুর মধ্য দিয়ে অবহেলিত আদিবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন তাদের নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির মাধ্যমে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলেন তাদের সে পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় দক্ষিনা সিটি।

কোম্পানিটির মালিক কর্নেল আজম খান (অব.) ও তার স্ত্রী মুনা হক ২০০৪ সালে ওই জমির পাশে ৪৪ বিঘা জমি কেনেন। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে আদিবাসীদের বসতবাড়ির পাশে বালু ফেলে ভড়াট ও প্রাচীর নির্মাণ করে তাদের জমিটি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। একপর্যায়ে ক্ষমতার জোড়ে পনের হাজার টাকা করে জামানত নিয়ে আদিবাসীদের দেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গত কয়েক দিন ধরে হাউজিং কোম্পানির ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করছে। বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদের হত্যার হুমকি ধমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন পরিমল বনুয়া।

সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য পলি রানী জানান, হাউজিং কোম্পানির সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদেরকে এলাকা থেকে চলে যেতে নোটিশ দিয়েছে। আমাদের বিদ্যুৎ লাইন কেটে নেওয়ায় প্রায় আধাকিলোমিটার দূর থেকে খাওয়ার পানি আনতে হয়। এ অবস্থায় আমাদেরকে সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করলে স্বামী-সন্তান নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো। তাই সন্ত্রাসীরা যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের উপর উচ্ছেদ করতে না পারে সেজন্য মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সেলিম মন্ডলের সাহায্য নিয়ে দক্ষিনা সিটির মালিক তাদের বসতবাড়ি দখল করার চেষ্টা করছে। বাধা দিলে যুবলীগের সভাপতি বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় উল্টো ফাঁসানোসহ ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

সেলিম মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি দক্ষিনা সিটির সাথে বালু ভরাটের চুক্তি করেছি। সে চুক্তি অনুযায়ী তারা যেখানে বালু ফেলতে বলেন সেখানেই বালু ফেলি। তবে এবিষয়ে দক্ষিনা সিটির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সাথে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হয়নি।

বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন বলেন, হাউজিং কোম্পানির লোকেরা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের জমি নামমাত্র মূল্যে বিক্রিতে বাধ্য করছেন। না বিক্রি করতে চাইলেই শুরু হয় নানারকম অত্যাচার। এসব ভূমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সরকারি জমিও। যেখানে সেখানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে বালু দিয়ে ভরাট করছে শত শত একর জমি।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাসের বেগ বলেন, আদিবাসীদের নিকট থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সার্ভেয়ার পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: দ্য রিপোর্ট