নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর আজিমপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলিতে একজন নিহত ও পাঁচ পুলিশসহ মোট ৮জন আহত হয়েছে। শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। লালবাগ জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত জঙ্গীর নাম জিলহজ করিম বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আহতদের তিনজন নারী। তাদেরকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। আহত তিন নারীকে ও আহত পুলিশ সদস্যদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল লাবলু, রামচন্দ্র বিশ্বাস, শাজাহান, জহিরুদ্দিন ও মাহাতাব। এদের মধ্যে তিনজন বোমা বিস্ফোরণে আহত হন। অপর দুজন চাপাতির অাঘাতে জখম হয়েছেন।
নিহত করিমই গুলশানের হলি আর্টিজান, শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলা, কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানাসহ জঙ্গিদের বাসা ভাড়া নেওয়ার মূল হোতা করিম বলে জানিয়েছেন পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, করিমের কাজই হচ্ছে জঙ্গিদের জন্য বাসা ভাড়া করা। তার স্ত্রীও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। এর আগে বসুন্ধরা, কল্যাণপুর ও শোলাকিয়ায় এই করিমই স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ বাসা ভাড়া নিয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। সামান্য কিছু আসবাবপত্র নিয়ে বাসায় ওঠে সে। পরে জঙ্গিরা ওই বাসায় অবস্থান নেওয়ার পর করিম পরিবার নিয়ে অন্যত্র সটকে পড়ে। গুলশান হামলার দুদিন পর এই করিম পরিবারসহ বসুন্ধরার বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে ধরতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ভারাপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, এই পরিবারটি একসঙ্গে একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে রেখেছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এসব বাসার কয়েকটিতে অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে তাদের পাওয়া যায়নি।
সিটির কর্মকর্তারা জানান,সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই করিম বাসা ভাড়া নিতো । তার সংসারের খরচের টাকাও দেওয়া হয় সংগঠন থেকে। তার কাজই কেবল দম্পতি পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা তৈরিতে সহায়তা করা। সংশ্লিষ্টরা জানান, করিমের মাধ্যমেই তার স্ত্রী জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ৮-১০ বছর বয়সী তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে।
সূত্র জানায়, করিমের মাধ্যমে রাজধানীতে আরও কয়েকটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যে শনাক্ত হওয়া অন্তত তিনটি বাসায় গোয়েন্দারা অভিযানও চালিয়েছেন। কিন্তু অভিযানে গিয়ে কাউকেই বাসায় পাননি। বাড়িওয়ালা তাদের জানিয়েছেন, তাদেরকে না জানিয়েই ভাড়াটিয়ারা কোথাও চলে গিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব বাসায় ভারী কোনও আসবাপত্র নেই। কোনও রকমে ঘুমানোর জন্য কিছু তোষক-বিছানাপত্র ও রান্নার জন্য হাড়িপাতিল পাওয়া গেছে। এছাড়া কোনও ডকুমেন্টসও পাওয়া যায়নি এসব আস্তানায়।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মারুফ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আজিমপুরে বিজিবি (প্রাক্তন বিডিআর) ২ নম্বর গেটের কাছে একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অবস্থানরত জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ঘটনাস্থলে জানান, নিহত ব্যক্তির নাম জিলহজ করিম। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারী জঙ্গিদেরকে সে বাড়ি ভাড়া করে দিয়েছিলো। আহত তিন নারীর মধ্যে রাজধানীর রূপনগরে পুলিশি অভিযানে নিহত জঙ্গি জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার ও তাদের মেয়ে রয়েছেন। মেয়ের নাম ও অপর নারীর পরিচয় জানা যায়নি।
আইজিপি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি পিস্তল, নগদ টাকা ও মরিচের গুড়া উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করছেন।
পুলিশ জানায়, একমাস আগে জঙ্গিরা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। ভাড়াটিয়া হিসেবে তারা তাদের তথ্য গোপন করে। শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিতে ওই বাসায় যায়। এসময় জঙ্গিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই বাসা থেকে এক নারীকে ছোরা হাতে দৌঁড়ে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। তার পেছনে পেছনে পুলিশও দৌঁড়ে বেরিয়ে আসে। এরপর সেখান থেকে গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

এ বিভাগের আরো..
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এডিবির আরও সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
রায়গঞ্জে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার