মৈত্রী গোস্বামী : বাড়ি ফিরতে প্রায়শই অনেকটা রাত হয়ে যায় সুজাতার | সুজাতার বাড়িতে ওর দুটো তিন বছরের যমজ মেয়ে আছে |স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হবার পর মানসিক স্থিরতা ধরে রাখতে পারেনি সুজাতা | একটা শপিং মলে কাজ করতে গিয়ে যোগাযোগ হয়ে এসকর্ট সার্ভিসের সাথে জড়িয়ে গেছে ও | প্রথম দিকে প্রচন্ড অপরাধ বোধ হয়েছিল কিনতু স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা আর টাকার অভাব এই দুয়ের মেলবন্ধন তাকে অনুঘটকের মতো এই কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছে |অবশ্য কয়েকবছর পর টাকা কামিয়ে এই কাজ ছেড়ে দেবার পরিকল্পনা আছে সুজাতার |মেয়েরা একটু বড় হতে হতে ওর অনেক টাকাই জমে যাবে আর তাই দিয়ে অন্য কোনো নতুন সুস্থ ব্যবসা শুরু করার চিন্তায় আছে ও |
রাতের নৈহাটী লোকালে সেদিন অনেকটা রাত করেই ফিরছিলো সুজাতা | গোটা লেডিস কম্পার্টমেন্টে একটাও মানুষ নেই | লোকজনের অনুপস্থিতিতে চারপাশের দেয়ালগুলি জীবন্ত হয়ে ওঠে |সুজাতা ফাঁকা কম্পার্টমেন্টের ভিতরের দেয়ালগুলোতে চোখ বোলাতে থাকে | কখনোবা তান্ত্রিকের বশীকরণের বিজ্ঞাপন ,কখনোবা কুমারী মেয়ের গর্ভপাতের ফোন নম্বর ,কখনোবা ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে দুপাশে ছেলে মেয়ের নাম ইত্যাদি চোখের সামনে আসছে আর যাচ্ছে ,বিষয়টা অনেকটা এক চোখ দিয়ে ঢুকে আরেক চোখ দিয়ে বেরিয়ে যাবার মতো |
কামরার ভিতরের বামদিকের সারির জানালার উপরে হঠাৎ একটা বিজ্ঞাপনে চোখ আটকে যায় সুজাতার |একটা মোবাইল নাম্বার দিয়ে উপরে লেখা আছে ‘প্লে বয়’ |সুজাতা হঠাৎ নিজের মোবাইলে ওই নাম্বারটা লোড করে নেয় |সুজাতা নিজে একজন মহিলা এস্করটার কিনতু এই পেশার সাথে যুক্ত পুরুষদের বিষয়ে ওর কোনো আইডিয়া নেই | এই ছেলেগুলোর সাথেও কি তাদের প্রেমিকা বা স্ত্রী বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ? এই ছেলেগুলোর বাড়িতেও কি দুটো সন্তান আছে নাকি বাড়িতে এদের মারণব্যাধিতে আক্রান্ত বাবা মা আছেন যাদের জন্য ওরা এই পথে আসতে বাধ্য হয়েছে ? এইসব ভাবতে ভাবতে সুজাতা ওই নম্বরে কল করে সময় দেখে ছেলেটিকে বুক করে |
এক ছুটির দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ছেলেটি এসে হাজির হয় | সুজাতা জানে যে এই পেশায় যুক্ত লোকজনের বেশিভাগই নিজেদের নাম ঠিকানা গোপন করে | তাই সুজাতাও কায়দা করে কথায় কথায় বশ করে তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে থাকে | উত্তরে ছেলেটি বলে যে সে নাকি একটি নামি আই.টি কোম্পানির কর্মী |সুজাতা শুনেই অবাক হয়ে যায় আরও জিজ্ঞেস করে
-আপনার বাড়িতে কে কে আছে ?
– আমার স্ত্রী আর এক ছোট ছেলে আছে |
-তাহলে কি আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার কোনো সমস্যা আছে ?
-নাতো ,আমার জীবনের একমাত্র প্রেম আমার স্ত্রী |
-তাহলে কি আপনার স্ত্রী আপনার এই কাজের ব্যাপারে জানেন না ?
– দেখুন টাকাটাই আসল | আমাদের মতো অনেক ছেলেই উপরি ইনকাম করার জন্য অবসর সময়ে এই কাজ করে ,এটা আমার একটা এভোকেশন বলতে পারেন |
-তাহলে কি আপনার স্ত্রীর এই ব্যাপারে আপত্তি নেই ?
– দেখুন আমি যা করি বা যে টাকাটা উপার্জন করছি তাতো ওদের জন্যই ,ওরা যাতে আরো বেশি করে ভালো থাকতে পারে তার জন্যই এই কাজ ,সুতরাং বলেই বা কি !!
ছেলেটি চলে গেলে যমজ মেয়েদুটোকে কোলে টেনে নেয় সুজাতা আর ভাবতে থাকে পুরুষের আকাশ আর মহিলাদের মাটির মাঝে ঠিক কত যুগের ব্যবধান ?!
সূত্র: লেখকের ফেসবুক পাতা।

এ বিভাগের আরো..
কোলকাতায় বিশ্ব কবি মঞ্চ সম্মাননা পেলেন অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল
একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে ১ ফেব্রুয়ারি
কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী