ডেস্ক : ‘সব ভাল তার, শেষ ভাল যার’- অতি পরিচিত এই প্রবাদ বাক্যটি প্রমাণে সবাই যে সবসময় সফল হয়েছে ও তার ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু শত সমস্যা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত শেষের আয়োজন দিয়ে হলেও রিও অলিম্পিকের আমেজটা বিশ্ব বাসীর কাছে সমৃদ্ধই করে রাখলো ব্রাজিল। নাচে গানে বর্ণিল আয়োজনে এ যেন শুধুমাত্র অলিম্পিকের সমাপনী নয় বরং সারা বিশ্বকে এক মুহূর্তের জন্যও মারাকানা স্টেডিয়াম থেকে দৃষ্টি না সরানোর কঠোর পণ। আর তাতে শতভাগ সফল রিও অলিম্পিক আয়োজক কমিটি। একইসাথে ২০২০ গেমসের জন্য টোকিওকে একটি প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া, ‘এ যাবত কালের সেরা আসর করে দেখাও তোমরা, তাহলেই বলা যাবে রিও কতটা সফল ছিল।’
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান থমাস বাখ আগেই ব্রাজিলিয়ান শহরকে ‘দূর্দান্ত’ এক আসর আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ভাবে সকলের সামনে তা জানালেন, ‘চমৎকার একটি শহরে চমৎকার একটি গেমস সম্পন্ন হলো। আগামী প্রজন্মের কাছে এই অলিম্পিক গেমস একটি ইউনিক বার্তা ছুঁড়ে দিয়ে গেল। রিও ডি জেনিরোতে গেমস শুরুর আগের কথা ইতিহাস বলবে, একইসাথে বলবে গেমস শেষ হয়ে যাবার পরে এই শহরের সফলতার কথা।’
এর কিছুক্ষন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল দলটি এবারের গেমসে শেষ স্বর্ণ পদকটি জয় করে পদক তালিকায় নিজ দেশকে আরো উপরে আসীন করেছে।
আবহাওয়া খুব একটা অনুকূলে না থাকলেও তাতে সমাপনী অনুষ্ঠানের আড়ম্বরতা একটুও কমেনি। অংশগ্রহণকার দেশগুলোর এ্যাথলেটদের সাথে এদিন এক হয়ে গিয়েছিলেন মারাকানায় উপস্থিত ৭০ হাজার দর্শক, বিভিন্ন দেশের ডেলিগেট, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সর্বোপরী যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে রিও গেমসে নিজেদের সফল দাবী করছে ব্রাজিল, সেইসব স্বেচ্ছাসেবকরা। ব্রাজিলিয়ান কৃষ্টি, সংস্কৃতি, নয়নাভিরাম ফায়ারওয়ার্কস, লেজার শোর বর্ণিল আয়োজনের সাথে সকলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। ১৬দিনের ময়দানী লড়াই শেষে সব দেশের ক্রীড়াবিদরা যখন একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে, একে অপরের সাথে কাঁধ মিলিয়ে সেলফি তুলেছে সেই দৃশ্য অবলোকন করেছে বিশ্বের হাজারো কোটি ক্রীড়াপাগল মানুষ।
পরবর্তী আসরের আয়োজক টোকিওর জন্য মাঝে একটি সময় বরাদ্দ ছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো এ্যাবেকে নিনটেনডো ভিডিও গেমের জনপ্রিয় চরিত্র সুপার মারিওর আদলে দেখিয়ে ২০২০ টোকিও আসরের জন্য তাদের প্রস্তুতিতে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও যে খেলাগুলো সেখানে অনুষ্ঠিত হবে তারও একটি ঝলক দেখিয়েছে জাপানীজরা। জাপানী প্রধাণমন্ত্রীর হাতে অলিম্পিক ব্যাটন তুলে দেবার মাধ্যমে মূলত রিও অলিম্পিকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়, থমাস বাখের ঘোষনার মধ্য দিয়ে রিও ডি জেনিরোর আসরের মশালও নিভে যায়। স্কুলের বাচ্চাদের ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে যে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল তার রেশ থেকে যায় অনেক রাত পর্যন্ত। সমাপনী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক যখন দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মনে রেখ আনন্দ উপভোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ তোমার ওপরেই নির্ভও করে, আমার মনে হয় কথা অনেক হয়েছে, চলো সবাই নাচি’- এই ঘোষনার পরে আসলে আর কিছুই করার থাকেনা। বিদায়ের ক্ষণ নয় বরং ঘন্টার পর ঘন্টা চলে ড্রামের উত্তাল বাজনার সাথে সাথে আনন্দ নৃত্য, ব্রাজিলিয়ান কার্নিভাল মনে হয় একেই বোঝায়।
প্রথমবারের মত দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে অলিম্পিকে মত বিশ্ব ক্রীড়া আসর আয়োজনে নিরাপত্তার শঙ্কার পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যাও সকলের মনে উঁকি দিয়েছিল। বিশেষ করে ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। বিভিন্ন ভেন্যুতে দর্শকের অনুপস্থিতির কারনে গ্যালারীগুলো ফাঁকা থাকা অনেকেরই চোখে পড়েছে। কিন্তু একইসাথে এই গেমসে উপভোগ করেছে উসাইন বোল্টের অলিম্পিকের শেষ দৌড় ও মাইকেল ফেল্পসের রেকর্ড পদক জয়ের মুহূর্তটি। আর এগুলো উপভোগ করতে কিন্তু কানায় কানায় পূর্ণ ছিল স্টেডিয়াম গ্যালারি। ১০০মিটার, ২০০ মিটার ও ৪ী১০০ মিটারে টানা তৃতীয়বারের মত স্বর্ণ জয় করে অলিম্পিকের ইতিহাসে ‘ট্রিপল, ট্রিপল’ জয়ের রেকর্ড বোল্টের পক্ষেই সম্ভব। অন্যদিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ফেল্পসের গড়া ২৩টি স্বর্ণের রেকর্ড আদৌ কেউ কোনদিন ভাঙ্গতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
দেরীতে হলেও শেষ পর্যন্ত ফুটবলের অধরা স্বর্ণটি নেইমারের হাত ধরে ব্রাজিলের কাছে পৌঁছানোর উচ্ছাসটাও কম ছিল না। ফাইনালে জার্মানীকে হারিয়ে স্বর্ণ জয়ের মুহূর্তটি অনেক কিছুকেই ভুলিয়ে দিয়েছে। একইসাথে ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে একথাও বলতে শোনা গেছে ফুটবলের স্বর্ণের পরে মূলত আর কিছু পাবার নেই। যদিও ফুটবলের পরেই ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ভলিবলেও কাঙ্খিত স্বর্ণটি ইতালিকে সরাসরি সেটে হারিয়ে ঠিকই আদায় করে নিয়েছে ব্রাজিল পুরুষ দলটি, যা উপভোগ করতে স্বয়ং নেইমারের মত তারকাও মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস

এ বিভাগের আরো..
ঝিনাইদহে ফুটবল খেলার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
বিশ্ব ফুটবলে ২০২৩ সালের শীর্ষ ১০ ঘটনা
অস্ট্রেলিয়া হেডের সেঞ্চুরিতে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ