October 9, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

তারেক-মিশুক দুজনেই কাজের সময় দারুণ উত্তেজনায় থাকতেন:আসিফ মুনীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে জহির রায়হান ও আলমগীর কবিরের পর বোধ করি তারেক মাসুদই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক বেশী পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেন এবং ধীরে ধীরে সাফল্যের দেখা পান। এই অর্জনে তাঁর সহধর্মিনী ক্যাথেরিন মাসুদের অবদানও কম নয়। মুক্তির গান, মাটির ময়না ও রানওয়ে তারেক মাসুদের উল্লেখযোগ্য, আলোচিত ও প্রশংসিত কাজ। মুক্তির গান ছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একদল গায়কের ক্যাম্পে ক্যাম্পে অনুপ্রেরণা যোগানো ও তাদের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা নিয়ে ডকুফিকশন। আর মাটির ময়না হলো মাসুদের অনেকদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং নিজের প্রথম কাহিনীচিত্র। মাদ্রাসা ছাত্র অনুকে ঘিরেই তৈরী হয়েছে এই চলচ্চিত্রের বৃত্তচাপ। অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর আগে যে ছবি তিনি শেষ করেছেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করেছেন, সেই রানওয়ে ছবিতেও রয়েছে মাদ্রাসা ছাত্রদের কথা।  রয়েছে ধর্ম ও ইজম নিয়ে নির্মাতার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। জীবনের শেষ কাহিনীচিত্রে রয়েছে শূন্য দশকের জঙ্গীবাদ ও সেখান থেকে ছবির প্রধান চরিত্র রুহুলের পরিত্রাণ পাওয়ার কাহিনী। দর্শকদের বিশাল অংশই রানওয়ে ছবিটি দেখার সুযোগ পাননি। তারপরও বিভিন্ন জনপ্রিয় ও প্রচারশীর্ষ পত্র-পত্রিকায় রানওয়ে ছবি সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে, সেগুলো চলচ্চিত্রটিকে একভাবে পাঠের প্রতিক্রিয়া।

নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরের অকালপ্রয়াণের পাঁচ বছর উপলক্ষে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ, প্রজন্ম ’৭১ ও শিল্পকলা একাডেমি গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজন করেছিল এ স্মরণানুষ্ঠানের।

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মিশুক মুনীরের ভাই আসিফ মুনীর বলেন, তারেক-মিশুক দুজনেই কাজের সময় দারুণ উত্তেজনায় থাকতেন। কীভাবে কোন শট নিতে হবে, তা নিয়ে প্রচুর পরিকল্পনা করতেন তারা।

‘ঢাকা ও মানিকগঞ্জে দুটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া যেন দ্রুত হয়। মালিকরা যেন খবর নেন তাদের ড্রাইভার গাড়ি চালাতে প্রস্তুত কি না।’- এমন মন্তব্য করেন প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের সহোদর নাহিদ মাসুদের।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে রানওয়ে ছবিটি দেখানোর পর আলোচনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ. আল মামুন। তিনি বলেন, ‘২০০৫-০৬-এর ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এ ছবি নির্মিত হয়েছিল। তারেক মাসুদ সে সময় এ দেশের জঙ্গি সমস্যার উৎসের খোঁজ করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী, প্রজন্ম ’৭১-এর অনল রায়হান ও ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন। সভাপতি ছিলেন বাউল নূহীর সাঁই। দর্শক সারিতে ছিলেন মিশুক মুনীরের স্ত্রী মঞ্জুলী কাজী’সহ অনেকে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর’সহ আরও তিনজন। এই ঘটনায় ঢাকা ও মানিকগঞ্জে পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।