October 9, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘চমকহীন’ পরিবারতন্ত্র কমিটি বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় কাউন্সিলের প্রায় সাড়ে চার মাস পর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করলেও কোনো ‘চমক নেই। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলটির ৫৯২ সদস্যের কমিটিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম হয়েছে। কারো বাবার পরিচয়ে, কারো বা স্বামীর, কেউবা শ্বশুরের বদৌলতে স্থান হয়েছে কমিটিতে।

তবে দলের পক্ষে থেকে বলা হয়, বিএনপির নতুন কমিটি আগামীতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই সদস্য অব্যাহতি চেয়েছেন।

খালেদা জিয়া অনুমোদিত বিএনপির নতুন কমিটিতে দলটির নেতাদের পরিবারের দুই ডজন সদস্য স্থান পেয়েছেন।

bnp new leader দলের অনেকেই দাবি করেন, বিএনপির নতুন কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অধ্যাপকও গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেয়েছেন। নির্বাহী কমিটির পদ দেওয়া হয়েছে ছাত্রদলের সাবেক বেশ কয়েকজন নেতাকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘোষিত এই কমিটিতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় রয়েছে। নারীদেরও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার (৬ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটিসহ পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটি, স্থায়ী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদ মিলিয়ে মোট ৫৯২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য ১৭ জন, ৭৩ জন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও সাতজন যুগ্ম-মহাসচিবের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাহী কমিটিতে সম্পাদক বা কর্মকর্তা হিসেবে আছেন ২০৯ জন। নির্বাহী কমিটির সদস্য আছেন ২৯৩ জন।

বড় কমিটি গঠন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণেই তা করা হয়েছে। তা ছাড়া বিগত দিনগুলোতে দলের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এমন নেতা-কর্মীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ছাত্রদল যুবদল থেকে অনেকেই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার কারণেই তাদেরকে কমিটিতে আনতে হচ্ছে। তাই কমিটি একটু বড় হয়েছে।’

যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে দাবি করে মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ৩৫ বছরের পুরোনো একটি রাজনৈতিক দল। বহু কমিটি করা হয়েছে। আমরা মনে করি এই কমিটি একটি কার্যকর দক্ষ কমিটি হয়েছে। এ কমিটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ভূমিকা রাখবে।’

পরিবারতন্ত্র

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বর্তমান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। তারেক রহমানকে স্থায়ী কমিটিতে খালেদা জিয়ার পরেই রাখা হয়েছে। শুধূ তাই নয়, সদ্য ঘোষিত কমিটিতে বিএনপি নেতাদের পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ ইসলাম অমিতকে খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আওয়ালকে নির্বাহী কমিটির সদস্য, যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদেরের ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে রাখা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে সহ-মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, মির্জা আব্বাসের ছোট ভাই ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মির্জা খোকন কার্যনির্বাহী সদস্য পদ পেয়েছেন। সালাউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ও মরহুম নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাছিমা আক্তার কল্পনাকে নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে। অন্যদিকে নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কেএম ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদকে সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে করা হয়েছে আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়কে প্রান্তিক ও জনশক্তি উন্নয়ন-বিষয়ক সহ-সম্পাদক করা হয়েছে। গয়েশ্বরের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরীও পদ পেয়েছেন, তিনি কার্যনির্বাহী সদস্য হয়েছেন। নিপুন ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে। স্থায়ী কমিটির সদস্য‌রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী অধ্যাপক সাহিদা রফিক উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পেয়েছেন।

সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর সঙ্গে তার মেয়ে আফরোজা খান রীতাও উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নানের মেয়ের জামাই। প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে ফাহিম চৌধুরীকে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুকে এবারও নির্বাহী সদস্য পদে রয়েছেন। সাবেক শিল্পমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম খান অসুস্থতার কারণে স্থায়ী কমিটি থেকে বাদ পড়লেও তার ছেলে মইনুল ইসলাম শান্ত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হয়েছেন। সাবেক পরিবেশমন্ত্রী শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ সহ-তাঁতি বিষয়ক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। সাবেক গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের ভাই আনোয়ার হোসেন বুলু নির্বাহী সদস্য হয়েছেন।

এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল) এর প্রয়াত সভাপতি অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারাহানাকে সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটিতে তিন নতুন মুখ

দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি ১৪জন পুরানো আর তিন জন নতুন মুখ জায়গা পেয়েছেন। ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির মধ্যে ১৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে নতুন জায়গা পেছেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। স্থায়ী কমিটির দুটি পদ নাম ঘোষণা করা হয়নি। পরে এই দুটি পদে নাম ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া আগের কমিটির সদস্য আর এ গণি ও মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেছেন। আরেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বিএনপির আগের স্থায়ী কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন সারওয়ারী রহমান ও শামসুল ইসলাম। এর মধ্যে সারওয়ারী রহমানকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে শামসুল ইসলাম শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

মির্জা ফখরুল পদাধিকারবলে স্থায়ী কমিটির সদস্য। গত ৩০ মার্চ মহাসচিব হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির নতুন স্থায়ী কমিটির অন্য ১৭ জন সদস্য হলেন- চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (পদাধিকারবলে), সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান (পদাধিকারবলে), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনালের (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (পদাধিকারবলে), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।

নতুন নিয়োগ পাওয়া সালাউদ্দিন আহমেদ স্থায়ী কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য। আগের কমিটিতে তিনি যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভারতের শিলংএ শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়ে অবস্থান করছেন। এছাড়া ১৭ ও ১৮ নম্বর সদস্যের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নতুন স্থায়ী কমিটির প্রথম সদস্য। দ্বিতীয় সদস্য হিসেবে রয়েছেন তার ছেলে লন্ডনে থাকা তারেক রহমান। তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানও। ক্রমানুসারে সালাহউদ্দিন আহমেদ স্থায়ী কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা

৭৩ সদস্যের বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদেও অনেক নতুন মুখ আনা হয়েছে। নতুন মুখের মধ্যে আমান উল্লাহ আমান (আগের কমিটির যুগ্ম মহাসচিব), আবুল খায়ের ভুইয়া, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, প্রকৌশলী আ ন হ আক্তার, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, ইসমাইল জবিউল্লাহ, গোলাম আকবর খোন্দকার, কাজী আসাদ, কবির মুরাদ, ফজলুর রহমান, আতাউর রহমান ঢালী (ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি), ড. এনামুল হক চৌধুরী (যিনি আগের কমিটিতে চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বে ছিলেন), অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–য়া, (ঢাবি) বিজন কান্তি সরকার, সঞ্জিব চৌধুরী, সৈয়দ আলমগীর হোসেন অন্যতম।

ভাইস চেয়ারম্যান

নতুন কমিটিতে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট ভাইস চেয়ারম্যানের নতুন মুখ ২১ জন। তবে নতুন কমিটিতে বিদায়ী কমিটির কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের কমিটি ১৭ সদস্যবিশিষ্ট (চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানসহ) ছিল। তবে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ করা হয়। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুন এসেছেন- রাবেয়া চৌধুরী, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, আব্দুল মান্নান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর নাছির উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ড. ওসমান ফারুক, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, এনাম আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী ও শওকত মাহমুদ।

গত কমিটিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে শমসের মোবিন চৌধুরী বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন এবং সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ মারা গেছেন।

নির্বাহী কমিটির অন্যান্য পদে নতুন যারা

কমিটিতে নতুন মুখের মধ্যে প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে নতুন মুখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক পদে ঢাবির অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী বুলবুল (রাজশাহী সিটি মেয়র), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, সহ দফতর পদে মুনির হোসেন (স্বেচ্ছাসেবক দল) ও বেলাল হোসেন, সহ তথ্য ও গবেষণা পদে কাদের গনি চৌধুরী ও আমিরুজ্জামান খান শিমুল, শাম্মী আক্তারকে সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, সহ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, স্বনির্ভর বিষয়ক সহ সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি।

এ ছাড়া নির্বাহী কমিটিতে একেবারেই নতুন মুখ হিসেবে পদ পেয়েছেন যুবদলের মোজাম্মেল হোসেন, আব্দুল হামিদ, শামসুজ্জামান সুরুজ, কাজী রফিক, ছাত্রদলের আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, মামুনুর রশিদ, হাসান মামুন, নুরুল ইসলাম নয়ন, হায়দার আলী লেলিন, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, আব্দুল মতিন, ওমর ফারুক সাফিন, আবু বকর সিদ্দিক, ওবায়দুল হক নাছির, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম পটু ও অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম অন্যতম।

নারীদের প্রাধান্য

এবার বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নারীদেরকেও প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ। নারীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরি এস এ ইসলাম, অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক, রোজি কবির, তাহসিনা রুশদি লুনা, আফরোজা খান রিতাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য করা হয়েছে। অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাখা হয়েছে- সেলিমা রহমানকে। ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে শামা ওবায়েদকে। প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও বেবী নাজনীন, সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান ও ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক অপর্ণা রায়, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ সম্পাদক নেওয়াজ হালিমা আরলি, সহ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আক্তার রানু, সহ স্বনির্ভর সম্পাদক নিলোফার মনি, সহ তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া সিরাজ, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসিফা আশরাফি পাপিয়া। সবমিলিয়ে মোট ৬০ জনের বেশি নারী কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

পদত্যাগ

বিএনপির নতুন ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু কমিটি ঘোষণা সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে শারীরিক সমস্যাজনিত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন আছেন। কমিটি ঘোষণার পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি বিএনপির কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি মোসাদ্দেক আলীর মালিকানাধীন এনটিভির মাধ্যমে খবরটি জেনেছেন। তবে পদত্যাগের কোনো কাগজ দফতরে পাননি।

এদিকে কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক পদ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বরারব চিঠি দিয়েছেন শামীমুর রহমান শামীম। শনিবার (০৬ আগষ্ট) সন্থ্যায় নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তিনি তার নাম প্রত্যাহার চেয়েছেন। বিষয়টি শামীম নিজেই দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেছেন। আগে তিনি সহ-দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এখন তাকে সহ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে ওজানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি আগে এক নম্বর সহ-দপ্তর সম্পাদক ছিলাম এখন এর চেয়ে নিচের পদ সহ-প্রচার সম্পাদক । এ ছাড়া এখন তিন নম্বর সহ-প্রচার সম্পাদক। ১ নম্বর সহ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে ছাত্রদলের সাবেক নেতা আমিরুল ইসলামকে, তিনিও আমার কনিষ্ঠ। তাই আমি মহাসচিব বরাবর চিঠি দিয়ে কমিটি থেকে নাম না প্রত্যাহার চেয়েছি।’

দফতরে পুরোনো নতুনের মিশেল

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পাশাপাশি দফতরের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

সহ-দফতর সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে- তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসে ও বেলাল হোসেনকে।

টিপু গত কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক ছিলেন এবং বেলাল ছিলেন নির্বাহী কমিটির সদস্য। মুনির হোসেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

পদ ফাঁকা আছে

স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ ২ জন, যুব বিষয়ক সম্পাদক, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ২ পদে কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি।

বিশেষ সম্পাদক

বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে দুই জনকে বিশেষ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও স্থানীয় সরকার বিয়ষক সহ সম্পাদক আবু নাসের মো. ইয়াহিয়াকে বিশেষ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলররা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাহী ও স্থায়ী কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেন।

চার ধাপের কমিটি ঘোষণা

১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কাউন্সিলররা সর্বসম্মতভাবে কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেন। খালেদা জিয়ার চেয়ারপারসন ও তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তিন ধাপে মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৪২ নেতার নাম ঘোষণা করা হয়। ৩০ এপিল মহাসচিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কোষাধক্ষ্য পদে নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর ৯ এপ্রিল সাতজন যুগ্ম মহাসচিব আর নয়জন সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।
গত ১৮ এপ্রিল একজন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ২০ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে আটকে ছিল বিএনপির কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া।