October 12, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

গুলশান হামলা : ‘গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সত্যি নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক : গুলশান হামলাকারীদের সঙ্গে হাসনাত করিম এবং তাহমিদ হাসিব খানের জড়িত থাকার প্রমাণ পুলিশ পেয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম যে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তা সত্যি নয় বলে জানিয়েছেন এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

রোববার সকালে নিজ কার্যালয়ে এই ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার হাসনাত করিম এবং তাহমিদ হাসিব খানের গুলশান হামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। রিমান্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না বলেও জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আগেই এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ, তদন্তকারী কর্মকর্তার ওপর চাপ তৈরি করে। গুলশান হামলার সঙ্গে হাসনাত করিম এবং তাহমিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে, তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার মূল পরিচালনাকারী হাসনাত করিম, এরকম জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।

দৈনিক যুগান্তর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, হাসনাত করিম নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হামলা পরিচালনা ও মনিটরিং করেন। একইসাথে নানাভাবে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান করেন। এ সংক্রান্ত দুটি স্থির চিত্র প্রকাশ করেছে দৈনিকটি।

এতে দেখা যায় হসনাত করিম জঙ্গি রোহান ইমতিয়াজ, তাহমিদ খান রেস্টুরেন্টের ছাদে ঘনিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। পাশের ভবন থেকে তাদের এই সহাবস্থানের ছবিগুলো পার্শ্ববর্তী ভবনের একজন বাসিন্দা তুলেছেন বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। কানাডা প্রবাসী ছাত্র তাহমিদ খান নিজ হাতে অস্ত্র চালিয়ে সেও এই হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয় বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

হামলার সঙ্গে হাসনাত ও তাহমিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে এই ছবি সরকারের উচ্চ পর্যায়কেও দেখানো হয়েছে এবং উপর মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে, ঐ প্রতিবদনে উল্লেখ করা হয়।

গুলশান হামলার পর নর্থ সাইথ বিশ্ববিদ্যরয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে পরিবারসহ হোটেল থেকে বরে হয়ে যেতে দেখা যায়। এছাড়া হোটেলে তাকে জঙ্গিদের সাথে আলাপ করতেও দেখা গিয়েছিল আগে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে।