October 11, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কলকাতায় মাইলসের বিরুদ্ধে ফসিলসের আন্দোলন!

বিনোদন প্রতিবেদক : কোলকাতায় ব্যান্ড ফসিলস এর রূপম ইসলাম কোমড় বেধে অান্দোলন শুরু করে দিয়ছেন। ঠুনকো তার অভিযোগকে আন্দোলনে রূপ দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যবহার করছেন রূপম। ‘মাইলস’ কে কোলকাতায় বয়কট করতে বাংলাদেশের অন্যতম ব্যান্ড মাইলস-এর বিরুদ্ধে রীতিমতো মানববন্ধন, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় হাজির কলকাতার ব্যান্ড ফসিলস সদস্যরা। আর এটির লক্ষ্য, আগামী ১৩ আগস্ট কলকাতার নজরুল মঞ্চে হতে যাওয়া ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’। যে মঞ্চে গাওয়ার কথা মাইলস ও ফসিলস-এর।
আর এতেই বাধ সেধেছেন ফসিলস ব্যান্ডের সদস্যরা। তাদের দাবি, মাইলসের দুই সদস্য ভারতবিদ্বেষী। হামিন আহমেদ এবং শাফিন আহমেদ অনবরত ভারত-বিরোধী ফেসবুক পোস্ট এবং মন্তব্য করছেন। তাই তাদের এই যাত্রায় রুখে দিতে হবে!
এক্ষেত্রে ফসিলস ব্যান্ডের গায়ক ও প্রধান রূপম ইসলামের বক্তব্য হলো এমন- ‘মাইলস’এর ভক্ত আমরা সকলে। কিন্তু তাদের এই গুণটা (ভারতবিদ্বেষ) যখন থেকে প্রকাশিত হয়েছে, তখন থেকে আর নয়। যে কোনও ছুতোয় ভারতকে গালি দেওয়াটা ওদের একটা বড় উদ্দেশ্য। কথায় কথায় ভারতকে টেনে এনে গালি দেওয়া। এই ধরনের মানুষ ভারতেই আবার অনুষ্ঠান করতে আসার স্বপ্ন দেখে কী করে? অনুষ্ঠান করতে হলে নিশ্চয়ই ভারতীয় হাইকমিশনে যেতে হয় ভিসা জোগাড় করতে। সেটা কীভাবে হয়? তার যৌক্তিকতা কী, সেটা বুঝতে পারছি না! আয়োজকরাও কী করে এই ধরনের ব্যান্ডকে স্বাধীনতা দিবসের কনসার্টের জন্য নির্বাচন করতে পারে, বুঝতে পারছি না! তা সত্ত্বেও আমরা প্রথমে অনুষ্ঠান করতে রাজি হয়েছিলাম। তার পরে যে এত মানুষের দাবি থাকবে আমরা অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়াই, সেটা বুঝতে পারিনি। যখন বুঝতে পারলাম তারা চাইছেন না আমরা মাইলস এর সঙ্গে একই মঞ্চ শেয়ার করি, তখন সরে দাঁড়ালাম।’ বক্তব্যটি ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ফসিলস এর এহেন অপতৎপরতার পর কলকাতায় তাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। ওই প্রচারণাকে সমর্থন জানিয়ে মাইলসের সঙ্গে একই মঞ্চে গান গাইতে অস্বীকার করে কলকাতার ব্যান্ড ফসিলস। ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে আজাদী কনসার্ট নামের ওই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল একটি কলকাতার একটি এফ এম রেডিও স্টেশন।
কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার প্রচারণা আর ফসিলসের গান গাইতে অস্বীকার করার পরে শেষমেশ ওই দুটি ব্যান্ডকেই অনুষ্ঠানের বাইরে রাখা হচ্ছে বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
পশ্চিমবঙ্গের কিছু রকব্যান্ড ভক্ত গত কয়েকদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন যে লাগাতার ভারত বিরোধী মন্তব্য করেন যে ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্য, তাদের কীভাবে স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে ডাকা হচ্ছে।
টুইটারে বয়কট মাইলস হ্যাশট্যাগে প্রচারণায় বলা হচ্ছিল যে, ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট চলার সময় থেকেই মাইলসের দুই সদস্য হামিন আহমেদ আর শাফিন আহমেদ লাগাতার ভারত বিরোধী কটু কথা বলে চলেছেন।
ফসিলস-এর ম্যানেজার রূপসা দাশগুপ্ত বলেন, “আমরা কিন্তু মাইলসের গান শুনেই বড় হয়েছি, ওদের খুব ভক্ত আমরা। হামিন ভাই বা শাফিন ভাই কেউই যেহেতু আমাদের ফেসবুক বন্ধু নন, তাই আমরা আগে উনাদের পোস্টগুলো দেখি নি। এই কনসার্টটা ঘোষণা হওয়ার পরে আমাদের দেখানো হয় যে কীরকম খারাপ গালাগালি দেওয়া হয়েছে ভারতকে নিয়ে। যা সব লেখা হয়েছে, সেগুলো আমি যেমন বলতে পারব না, আপনরাও প্রচার করতে পারবেন না। উনারা যখন এতই ভারত-বিদ্বেষী আর দর্শকরাও যখন চাইছেন না, সেজন্যই ফসিলস সিদ্ধান্ত নেয় যে এরকম একটা ব্যান্ডের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করাটা কঠিন আমাদের পক্ষে।“
অন্যদিকে মাইলসের অন্যতম সদস্য শাফিন আহমেদ জানিয়েছেন যে তারাই কলকাতার ওই কনসার্টে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। “এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আমাদের সঙ্গে ফসিলসের সম্পর্ক – পরিচয় বহু বছরের। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একটা ব্যান্ডের ফ্যানদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টাটাকে এতদিন আমি ছোট করেই দেখছিলাম। অর্থাৎ এই যে ব্যান্ডের ফ্যানদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ঝগড়াঝাঁটি করা, নানা কথা লেখা – এটার মধ্যে মাইলস কোনোভাবেই জড়াবে না এটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু ওখানকার ব্যান্ড এখানকার ব্যান্ডকে যেতে দিচ্ছে না কোনও না কোনও অজুহাত দেখিয়ে – এটা অত্যন্ত দু:খজনক।”
নিয়মিত ভারত বিদ্বেষী মন্তব্য ফেসবুক পোস্ট করেন বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেই বিষয়ে শাফিন আহমেদ বলেন, “ফেসবুকের প্রোফাইল একান্ত আমার। বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে দেশের ক্ষতি হয়, এমন বিষয়ে নজরে এলে সেটা নিয়ে কথা বলার, লেখার অধিকার আমার আছে। ক্রিকেট ম্যাচ হলে আমি বাংলাদেশকে সমর্থন করে দুটো কথা আমি লিখতেই পারি। এটা ভারত বিদ্বেষ নয়, এটা দেশপ্রেম। কিন্তু মাইলস গান গাইতে যাবে, সেখানে এ বিষয়গুলোর প্রতিফলন হবে কেন?“
শাফিন আরো বলেন, বর্ডারে যদি প্রতিনিয়ত দেশের মানুষকে মারা হয়, অথবা জলবন্টন যদি ঠিকমতো না করা হয় আর তারফলে যদি দেশের কোনও অংশ যদি মরুভূমির মতো হয়ে যায়, সেটা নিয়ে কথা বলার অধিকার তার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “পাশের দেশ থেকে এত শিল্পী এখানে এসে অনুষ্ঠান করে যান, আমরা তো তাদের সাদর অভ্যর্থনাই করি। সে তুলনায় এতদিন পরে মাইলসের একটা অনুষ্ঠান করার সুযোগ এল কলকাতায়, সেটাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা একটা হীন মানসিকতার পরিচয়।”
অনুষ্ঠানটির আয়োজক রেড এফ এমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তারা জবাব দেন নি। তবে একটি ফেসবুক পোস্টে ওই এফ এম চ্যানেলটি জানিয়েছে যে ওই কনসার্টে মাইলস বা ফসিলস – দুটি ব্যান্ডের কোনটিই থাকছে না। গতকাল বুধবার আয়োজকদের দপ্তরে একটি বিক্ষোভ দেখানোরও কথা ছিল। তবে তার আগেই রেড এমএম ফেসবুক পোস্টে দিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।