October 8, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মোহনীয় অপরূপ প্রকৃতি কেবল হাকালুকি হাওড়েই

ডেস্ক:  সাগরের মতো এক বিশাল জলাশয়। বর্ষার পানিতে একেবারে টইটুম্বুর জলরাশি। এ যেন এক অন্যরকম উন্মাদনা। টাওয়ার মাথায় হৃদিতা অবলোকন করতে থাকে পুরো হাওর। যেদিকে তাকাই সেদিকেই মনে হয় আকাশ মিশে গেছে হাওরের সঙ্গে। টাওয়ার থেকে খুব কাছেই মনে হলো আকাশ। যেন আরেকটু হাত বাড়ালেই ছুতে পারব মেঘ। একটু দূরে তাকাতেই অসংখ্য পাহাড়ের অগ্রভাগ।

pic1 প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বিলের পাড় ছিল সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। শীতকালে অতিথি পাখিরা সারি বেঁধে আসতে থাকে বিলগুলোতে। পরিযায়ী পাখির আগমনে হাওর যেন পরিণত হয় স্বর্গোদ্যানে। যদিও এই বর্ষা মওসুমেও এসেছে কিছু অতিথি পাখি।

দূরে হাওরের ভেতর নিঃসঙ্গ কিছু হিজলগাছ। অদ্ভুতুড়ে আলপনা এঁকেছে যেন। অথৈ পানিতে গাছগুলো গোটা বর্ষাকাল ডুবে থাকে, পানি সরে যেতেই সে গাছগুলো নতুন কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করে। pic2

হাওরের শীতল জলে। এই জলে হিমেল বড়ই বেমানান, সাঁতার জানে না ও। টাওয়ারের সিঁড়িতে বসেই মগ দিয়ে গোসল করতে লাগল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। দূরে জেলেদের জাল ফেলতে দেখা যাচ্ছে। ভাটির গানের সুর শোনা যাচ্ছে এখান থেকেও।
`আষাঢ় মাসে ভাসা পানি
পূবালী বাতাসে
বাদাম দেইখ্যা চাইয়া থাকি
আমারনি কেউ আসে…।`

জলজ পাখিরাও মাছের শিকারে চলে আসে হাওরের পানির কাছাকাছি। মাছ ভেসে উঠতেই ছোঁ মেরে ঠোঁটে তুলে নিয়ে উড়াল দেয় আকাশে।

সত্যিই তাই। জেলেদের জিজ্ঞেস করলাম, কেউ জাটকা পাচ্ছে না। হাওড়ে ইলিশের কোন খবরই নেই। অথচ টিভিতে কত কী সংবাদ দেখি! কী দারুণ মিথ্যাগুলো লিখি প্রতিদিন!

টাওয়ারে খুব বেশি রাত না করে ফিরতে শুরু করলাম আমরা। সিলেটি ভাষা আয়ত্ব করা সম্ভব না এই অধমের পক্ষে।

 ভাটির গান জানো?`
`কী কন ভাই? জানুম না?` গান ধরে-
`খলাপাড়ার কাচু মিয়া বড় ভাগ্যবান
সোনার একটা মেডেল দিয়া বাড়াইছে সম্মান
মান বাড়িবে গুণ বাড়িবে সকল আল্লাহর দান
জীবন দিয়া রাখবো মোরা তালুকদারের মান।`

ছলাৎ ছলাৎ পানির শব্দ। দূরে জেলে নৌকার কুপির আলো। সন্ধ্যার এই সময়টুকুতে ফিরতে ফিরতে অন্য এক ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করল।

pic3কিভাবে যাবেন: 

জধানীর কমলাপুর ও ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ৩টা ট্রেন ছাড়ে সিলেটের উদ্দেশে। সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। ট্রেনে গেলে রাত ৯.৫০টার উপবন এক্সপ্রেসে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এ ছাড়া বাসেও যাওয়া যাবে। বাসে যেতে চাইলে অনেক বাস আছে। ভোর থেকে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত এসব বাস পাবেন। বাসে যেতে সময় লাগে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। কয়েকটি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত হাকালুকির অবস্থান হওয়ায় বিভিন্ন পথেই সেখানে যাওয়া যায়। তবে বড়লেখা উপজেলা হয়ে বেড়াতে গেলে পাথারিয়া পাহাড় ও সমনবাগ চা-বাগানের প্রাকৃতিক হ্রদগুলো দেখা যাবে। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে কানুনগো বাজার হয়ে অটোরিকশায় প্রথমেই কুলাউড়া বাজারে যাওয়া যায়। সব মিলিয়ে বড়লেখা থেকে দূরত্ব ২০ কিলোমিটারের মতো। বাজার থেকে হাঁটাপথ।

কখন যাবেন :

বর্ষা ও শীত উভয় ঋতুই সিলেটে ঘুরে বেড়ানোর জন্য উপযোগী সময়। অন্যান্য দর্শনীয় জায়গাগুলোর সঙ্গে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন হাকালুকি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপুর্ব লীলাভূমি হাওরটি বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে।

কোথায় থাকবেন :

হাওর এলাকায় থাকার জন্য রয়েছে ইজারাদারদের তৈরি করা দোচালা কুটিরগুলো যেখানে কমপক্ষে পাঁচজন থাকা যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই মালিকের অনুমতি নিতে হবে। তবে এর চেয়ে আরো ভাল হবে তাবু টানিয়ে থাকলে। জ্যোৎস্না রাতের হাওর এলাকা থাকে অন্যরকম দ্যুতিময়।