ডেস্ক প্রতিবেদন : আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য সোমবার (২০ জুন) সকাল থেকে দূরপাল্লার বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ভোর থেকেই গাবতলী, কল্যাণপুর, মালিবাগ, ফকিরাপুল, সায়দাবাদ, শ্যামলীসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এছাড়া বিভিন্ন অনলাইনেও শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি। অনলাইনের মধ্যে রয়েছে, সহজ ডটকম, বাসবিডি ডটকম ডটবিডি, বিডি টিকেটস ডটকম। পাশাপাশি কিছু শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, ন্যাশনাল ট্রাভেলস ও দেশ ট্রাভেলস তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। বাসের আগাম টিকিট বিক্রি৩০ জুন পর্যন্তচলবে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৬০টিরও বেশি রুটে এই অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

একজন যাত্রী চারটি টিকিটের বেশি নিতে পারবেন না বলে এবার বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনা রয়েছে।
সকালে কল্যাণপুর, গাবতলী মালিবাগ, ফকিরাপুল, সায়দাবাদ এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোর মধ্যে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, টিআর ট্রাভেলস, এসআর ট্রাভেলস, সৌদিয়া পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, ঈগল পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে সামনে যাত্রীদের লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন এলাকার টিকিট কাউন্টারে অবস্থানরত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ যাত্রী ৩০ জুন থেকে ৪ জুলাই এক পাঁচ দিনের টিকিট কাটার জন্য বেশি আগ্রহী। টিকিট ফুরিয়ে যাবার আগেই যেন নিজ নিজ টিকিট কাটতে পারে সে জন্য ভোররাতে সেহেরি খেয়ে বাস কাউন্টরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ লাইনে না দাঁড়িয়ে টাকার বিনিময়ে অন্যকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন।
এ বিষয়ে বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এজন্য ভাড়ার একটি তালিকা কাউন্টারগুলোতে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সমিতির পক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য টার্মিনালগুলোতে অভিযোগ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বেশি ভাড়া নিলে যাত্রীরা ওখানে অভিযোগ করবেন। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যাত্রীদের সতর্কতার জন্য আমরা বাস টার্মিনালে প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করেছি। সেখানে কাউন্টার ব্যতীত কারো কাছ থেকে টিকিট নেওয়া থেকে বিরত থাকা, অপরিচিত কারো কাছ থেকে কিছু না খাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট কিনতে পারেন সে বিষয়টি এবার বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। ঈদের টিকিটের জন্য কাউন্টারগুলোতে বেশ চাপ রয়েছে। মূলত তিন দিনের (২ থেকে ৪ জুন) টিকিটের বেশি চাপ রয়েছে। তাই সামাল দিতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে শ্যামলী পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারের কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল থেকে চাপ অনেক।’

এ দিকে হানিক পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টরেরর কর্মকর্তা বশিয়ার বলেন, ‘ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন যাত্রীরা। টিকিট বিক্রিতে চাপ অনেক।’
আগাম টিকিট বিক্রির বিষয়ে সোহাগ পরিবহণের মালিবাগ কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মী পাপিয়া বলেন, ‘সোমবার সকাল ৬টা থেকে আমরা আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেছি। সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কিনছেন যাত্রীরা।’
সায়দাবাদে সৌদিয়া পরিবহণের কাউন্টারে কর্মরত মোহাম্মদ সুমন বলেন, ‘সকাল থেকে বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে আমাদের এখানের যাত্রী উপস্থিতি খুবই কম।’

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এডিবির আরও সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী