October 8, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বিএনপি-জামায়াত গুপ্ত হত্যা চালাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্যই বিএনপি-জামায়াত দেশে গুপ্ত হত্যা চালাচ্ছে, সেই সাথে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করে দেশ ও জনগণের সম্পদ ধ্বংস করছে এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

জাপানের রাজধানী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে শনিবার বিকেলে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় এ সব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্যই পরিকল্পিতভাবে গুপ্ত হত্যা সংঘটিত করছে। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা এবং সরকার, দেশ ও জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে সরকার উৎখাতে ব্যর্থ বিএনপি-জামায়াত জোট গুপ্ত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে দেশকে অস্থিতিশীল এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

সাধারণ মানুষ হত্যার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট এখন ধরে ধরে মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, গীর্জার পাদ্রি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ নিরীহ সাধারণ মানুষ হত্যা করে চলেছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করে আদালতের রায় কার্যকর হতে না দেয়াও তাদের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

ইউএসএআইডি কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধুকে খুন করা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাবার অপচেষ্টায় জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধুকে খুন করা হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই বিএনপি-জামায়াত দেশে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির সূচনা করে। তাদের কর্মসূচি দেখে মনে হচ্ছিল, যেন মানুষ পুড়িয়ে মারার উৎসব চলছে।

তৎকালীন সময়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়া সে সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না। কিন্তু বেগম জিয়া শেষ পর্যন্ত আদালতে আত্মসমর্পণে বাধ্য হন এবং মাটিতে নাক ঘঁষে ঘরে ফিরে যান।

যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার নিয়ে তিনি বলেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার দাবি সমগ্র জাতির। আর এর মাধ্যমেই সমগ্র দেশ দীর্ঘ ৪৫ বছরের কালিমা দূর করতে পারে।

সমগ্র বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশকে এখন সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হয়।

বিদেশে বাংলাদেশের বদনাম যেন না হয় এমন অনুরোধ জানিয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশের এক একজন রাষ্ট্রদূত, কাজেই আপনাদের এ ক্ষেত্রে অনেক দায়িত্ব রয়েছে, আপনারা দেখবেন আমাদের যেন বদনাম না হয়।

প্রধানমন্ত্রী জাপান সরকারের প্রশংসা করে বলেন, জাপান বরাবরই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

দেশে প্রস্তাবিত নতুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জাপানি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের জন্য ঢাকার আশপাশে ৫ শত একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তারা (জাপানি ব্যবসায়ীরা) সেখানে বিনিয়োগ করবে এবং নিজস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ শেখা হাসিনা আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াতের তীব্র বাধার মুখেও দেশের জনগণ তাকে এবং তার দলকে নির্বাচিত করে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজনে তিনি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

বক্তব্য শুরুর আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

নাগরিক সংবর্ধনা আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এম আক্তারুজ্জামান, প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষে সাকুরা সাবের ও সালেহ মোহাম্মদ আরিফ।