November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বৈঠকের কথা স্বীকার করলেন আসলাম চৌধুরী : পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মোসাদ বিতর্কে আটক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ইসরাইলি লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে প্রথম দিনের রিমান্ডে তিনি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেননি। আসলাম ওই বৈঠকের বিস্তারিত রিমান্ডে বলবেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সোমবার থেকে সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। রোববার খিলক্ষেত থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের ঢাকা মহানগর উত্তর তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে থেকেই পুলিশ তাকে খুঁজছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে আসলামের রিমান্ডের ব্যাপারে মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আসলাম চৌধুরীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই চলছে।
রিমান্ড মঞ্জুরের পরই আসলাম চৌধুরীকে মিন্টু রোডের গোয়েন্দা হেফাজতে আনা হয়। মাঝে কিছু সময় বিরতি দিয়ে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দাদের একাধিক কর্মকর্তা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের প্রশ্নে আসলাম বলেন, মার্চের শুরুর দিকে তিনি ভারত যান। ওই সফর ছিল কেবল ব্যবসায়িক। ৫ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে তার দেখা হয়। ভারতে যাওয়ার পর অন্য একজনের মাধ্যমে সাফাদির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় এক সঙ্গে ঘুরেছেন, খাওয়া-দাওয়াও করেছেন। আগ্রার মেয়র তাকে সংবর্ধনা জানান। তখন মেন্দি এন সাফাদিকেও সংবর্ধনা জানানো হয়। কিন্তু মেন্দি যে ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতা তা জানতেন না। ওইসব বৈঠকে ব্যবসায়িক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু রাজনীতি বা সরকার উৎখাতের কোনো আলোচনা হয়নি। আর ষড়যন্ত্র তো দূরের কথা।
গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, আসলাম চৌধুরী ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করছেন না। কিন্তু ওই ষড়যন্ত্র কীভাবে করা হয়েছে, তার বিস্তারিত গোয়েন্দাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। তাদের বৈঠকের ছবি দেখানো হলে তা আসলাম চৌধুরী স্বীকার করেছেন। তবে বৈঠকের বাইরে তিনি কিছুই বলছেন না। এ জন্য আজ মঙ্গলবার নানা কৌশলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাসিন্দা আসলাম চৌধুরী ২০০৩ সালে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি কনফিডেন্স সিমেন্টের অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। এরপর তিনি লায়ন্সেরও গভর্নর হন। ওয়ান-ইলেভেনে তিনি বিএনপির পক্ষে কাজ করেন। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান। ২০০৯ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং এক পর্যায়ে আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।