ডেস্ক প্রতিবেদন : খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে আজ। এই দিনে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিস্ট মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান করেছিলেন।
গুড ফ্রাইডেতে বিপথগামী ইহুদিরা যীশুখ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। মৃত্যুর তৃতীয় দিবস অর্থাৎ রবিবার তিনি জেগে উঠেছিলেন। যিশুখ্রিস্টের এই পুনরুত্থানের সংবাদ খ্রিস্টবিশ্বাসীদের জন্য খুবই আনন্দের এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনটিকে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা ইস্টার সানডে হিসেবে পালন করে থাকে।
জানা যায়, যীশুর শিষ্যযিহুদা ইসকারিয়োতের সহায়তায় মন্দিরের রক্ষীদলগেৎশিমানি উদ্যানেযীশুকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে প্রধান পুরোহিত কায়াফারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেসানহেড্রিয়ান(প্রাচীন ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃপক্ষ) একত্রিত হয়। প্রধান পুরোহিত যীশুকেঈশ্বরনিন্দারদায়ে অভিযুক্ত করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।
পরদিন সকালে সকল সভাসদগণ যীশুকে রোমান রাজ্যপালপন্টিয়াস পিলাতেরকাছে নিয়ে গেলে তিনি যীশুর বিচার ও শাস্তিদানের অনুমতি দিলেন। কিন্তু ইহুদি সমাজপতিরা জানালেন রোমান আইন অনুযায়ী তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমতি নেই।
পিলাত নিজে যীশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন ও ইহুদি বিচারকদের জানালেন যে, তিনি যিশুকে শাস্তিদানের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। যীশু গালিলের লোক জেনে তিনি গালিলের শাসকরাজা হেরোদের ওপর যীশুর বিচারের ভার ছেড়ে দিলেন। হেরোদতারণোৎসবভোজসভা উপলক্ষে সেই সময় জেরুজালেমেই ছিলেন। হেরোদ যীশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো উত্তর পেলেন না। তিনি পুনরায় যীশুকে পাঠিয়ে দিলেন পিলাতের কাছে।
পিলাত সমাজপতিদের জানালেন যে, তিনি বা হেরোদ কেউই যীশুকে দোষী মনে করছেন না। শেষে পিলাত সমস্যা সমাধানের জন্য যীশুকে শুধুমাত্র চাবুক মেরে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রাখলেন।
তারণোৎসব ভোজসভার রীতি অনুযায়ী সেই দিন ইহুদিদের অনুরোধক্রমে রোমানরা একজন বন্দীকে ছেড়ে দিতেন। পিলাত জনসাধারণকে জিজ্ঞাসা করলেন যীশুকে নিয়ে কি করা উচিত। এতে সকলেই একবাক্যে বললেন ‘ওকে ক্রুসবিদ্ধ করুন।’
সম্ভাব্য দাঙ্গা রোখার জন্য এবং নিজের চাকরি রাখতে পিলাত যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। ‘নাজারেথের যীশু, ইহুদিদের রাজা’ লেখা একটি ক্রুস যীশু বয়ে নিয়ে চললেন গলগথা নামক স্থানে। তাকে ক্রুস বহনে সাহায্য করেছিলেন সাইরিনের সিমন। গলগাথায় অপর দুই অপরাধীর সঙ্গে তাকে ক্রুসবিদ্ধ করা হলো।
ছয় ঘণ্টা যীশু ক্রুসে যন্ত্রণাভোগ করেন। শেষ তিন ঘণ্টায় (দুপুর তিনটে থেকে) অন্ধকারে সমগ্র অঞ্চলটি ঢেকে যায়।চিৎকার করে যীশু প্রাণত্যাগ করেন। ভূমিকম্প হয়, সমাধিপ্রস্তরগুলি ভেঙে যায় এবং প্রধান মন্দিরের পর্দা উপর থেকে নিচ অবধি ছিঁড়ে যায়। যে সেঞ্চুরিয়নক্রুসবিদ্ধকরণের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘ইনি সত্যই ঈশ্বরপুত্র।’
যীশুর মৃত্যু নিশ্চিত হলে দেহ পরিষ্কার করে ক্ষৌমবস্ত্রে মুড়ে ক্রুসবিদ্ধকরণক্ষেত্রের অদূরে একটি বাগানে সমাধিমন্দিরে রেখে দিলেন। একটি বড় পাথর দিয়ে সমাধির মুখ রুদ্ধ করে দেওয়া হলো। তৃতীয় দিন রবিবার যীশু পুনরুজ্জীবিত হলেন।

এ বিভাগের আরো..
চলতি বছরের ফিতরা জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা ও সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা
হাইকোর্টের আদেশ আপিলে স্থগিত, রমজানে স্কুল খোলা
সৎসঙ্গ বিহারে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্ম মহোৎসব