October 10, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় চার জেলায় নিহত ৯

ডেস্ক প্রতিবেদন :  প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় সারাদেশে এক নারীসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পিরোজপুর, নেত্রকোণা, সিরাজগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলায় ভোটগ্রহণ শেষে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পিরোজপুরে পাঁচজন, কক্সবাজারে দুইজন এবং সিরাজগঞ্জ ও নেত্রকোনায় একজন করে নিহত হন।

প্রথম ধাপের এ নির্বাচনে ৭১২টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু হয় মঙ্গলবার সকাল ৮টায় এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিকেল ৪টায়। ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয় ৫৬টি কেন্দ্রে।

দেশের ইউনিয়নগুলোতে ভোটগ্রহণের সময় তেমন কোন ঝামেলা না হলেও নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতায় চার জেলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে রাতে গণনার সময় এই সংঘাত বাঁধে।

পিরোজপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৫, আহত ২৫

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানিসাফা ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় ৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ও পুলিশ গুলি চালায়।

নিহতরা হলেন— ভান্ডারিয়া উপজেলার হরিণপালা গ্রামের আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে শাহাদাত (৩৫) ও সাইদুল মৃধার ছেলে কামরুল (২৫), মঠবাড়িয়ার সাফার বুড়িরচরের ফজলুল হক ছেলে সোহেল (২৬) ও গফুর মোল্লার ছেলে বেল্লাল (৩০) এবং লঞ্চঘাট বুড়িরচরের আনু তালুকদারের ছেলে সোলায়মান (২৫)।

এ ছাড়া ধানিসাফার মনছের হকের ছেলে ইয়াসিন, মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে মনছুর, মৃত কাশেম আলী হাওলাদারের ছেলে মো. ইউনুস, মৃত ডা. শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে মো. সুমন হাওলাদারসহ অজ্ঞাত ১০-১১ জন আহতদের বরিশাল, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া ও তুষখালীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, ধানিসাফা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশীদের ৭৪৬টি ব্যালট বাতিল ঘোষনাকে কেন্দ্র করে তার কর্মী-সমর্থকরা প্রিজাইডিং অফিসারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ খবরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী জিয়াউল বাসেতের নেতৃত্বে বিজিবি ও মঠবাড়িয়া পুলিশের দল সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় ম্যাজিষ্ট্রেটকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এতে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে গুলি চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার দিপাঞ্জন পাল জানান, ভোট গণনা শেষে ব্যালট বাক্স নিয়ে বের হওয়ার সময় কয়েক শত লোক তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের হতে না দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী জিয়াউল বাছেদের নেতৃত্বে বিজিবি ও মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে গুলির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গুলিতে ছয় জন নিহত হয়েছেন।

তবে মঠবাড়িয়ার থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান পাঁচ জন নিহতের খবর দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার চেষ্টা এবং রাস্তা অবরোধ করে ম্যাজিষ্ট্রেটকে আটকে রাখলে গুলি ছোড়া হয়।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, ভোট গণনার পরে কেন্দ্রে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

টেকনাফে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ২, আহত ১০

কক্সবাজারের টেকনাফে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপে দুই জন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ১০ জন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন— সাবরাং আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হোসাইন মেম্বারের আপন ভাই আবদুল গফুর ও শাহ পরীর দ্বীপ ৭ নং ওয়ার্ড মাঝের পাড়া দুদু মিয়া বলির পুত্র মো. শফিক।

টেকনাফের ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ দ্য রিপোর্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোণায় পুলিশের গুলিতে আ’লীগ প্রার্থীর ভাই নিহত

জেলার খালিয়াজুড়ি সদর ইউপি নির্বাচনে পুলিশের গুলিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর ভাই কাওসার নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ভোট গণনার সময় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তার ভাইকে বিজয়ী ঘোষণার কথা বললে এ নিয়ে পুলিশের সাথে কথা কাটিাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়লে সে নিহত হয়।

সিরাজগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৯

সিরাজগঞ্জে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে এক নারী নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার সময় জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রায়গঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কংকন বিশ্বাস জানান,ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর গ্রাম থেকে নবাব আলী (বৈদ্যুতিক পাখা) এবং সামিদুল ইসলাম (ফুটবল) প্রতিকে নির্বাচনে অংশ নেন। বিকালে ভোট গননা শেষে সন্ধ্যায় নবাব আলী বিজয়ী ঘোষিত হন। এরই জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সামিদুলের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নবাব আলীর লোকজনের উপর আক্রমন করে। এতে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় নবাব আলীর মা নওনাই বেগম (৬৩) উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পরে যান এবং পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের আরও ৯ জন সদস্য আহত হন। তাদের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা আছে। লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।