October 11, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

জমির স্বল্পতা ও ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ডেস্ক প্রতিবেদন  : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জমির স্বল্পতা ও ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য স্থপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থাপত্য হলো একটি সভ্যতার মাপকাঠি। প্রাচীন সভ্যতাকে চেনা বা জানার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্থাপত্যশিল্প। আজকে আমরা যা কিছু নির্মাণ করছি, কয়েক শ’ বছর পর যদি এগুলো টিকে থাকে তাহলে এগুলো আমাদের সময়কে ধারণ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যা কিছু নির্মাণ করি না কেন, সেগুলোকে যেমন একদিকে হতে হবে স্থায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব অন্যদিকে দৃষ্টিনন্দন। নান্দনিক বলেই মানুষ এখনো পুরোনো রাজবাড়ি, মসজিদ, মন্দির দেখতে ছুটে যায়।’

গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

আর্কিটেক্ট রিজিওনাল কাউন্সিল এশিয়ার সভাপতি সাথিরুত নুই টান্ডাহ্যান্ড, আইএবি সেন্টারের সভাপতি ড. আবু সায়ীদ এম আহমেদ, আইএবির সাধারণ সম্পাদক কাজী এম আরিফ, কাজী গোলাম নাসির অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্থপতিদের এমন স্থাপত্য নির্মাণ করতে হবে, যা টেকসই ও মজবুতের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব হবে। বাইরের দেশের কনসালটেন্টদের চেয়ে আমাদের দেশের কনসালটেন্টরা দেশের আবহাওয়া সম্পর্কে ভালো জানেন বা ভালো বোঝেন। তাই তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়াটাই ভালো।’

দ্রুত নগরায়ণের ফলে চাষের জমি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মাস্টারপ্লান বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে স্থপতিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের টার্গেট।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা মানুষও কুঁড়েঘরে বাস করবে না। একটা টিনের ঘর হলেও দেব। আমাদের কাছে পরিসংখ্যান আছে কত লোক এভাবে গৃহহারা আছে। তাদের আমরা একটা ঘর দিতে চাই। সেই সঙ্গে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিতে চাই। যাতে নিজেদের জীবনটাকে তারা উন্নত করতে পারে। গ্রামাঞ্চলের লোকজনও উন্নত পরিবেশ, উন্নত জীবনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। যে কারণে সরকার গ্রামাঞ্চলেও সব রকম সুযোগ-সুবিধা-সংবলিত পাকা বহুতল দালান নির্মাণ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আবাসন সুবিধা প্রদানেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের আবহাওয়া জলবায়ু পরিবেশ সবকিছু মাথায় রেখেই কিন্তু একটা স্থাপনা হওয়া উচিত। যখন প্ল্যান করা হয় বা ডিজাইন করা হয় আমাদের আর্কিটেক্টরাই তো ডিজাইন করেন। তারা যদি একটু লক্ষ্য রাখেন খাল নদী ভরাট না করে কীভাবে ডিজাইন করা যায়, তাহলে সত্যি আমাদের দেশটা রক্ষা পেতে পারে।’

আবাসন বা শিল্পকারখানা নির্মাণে যেন জলাধার ভরাট না হয় সেদিকে সচেতন হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রস্তাবিত এক শ’টি ইকোনমিক জোন নির্মাণের পাশাপাশি এগুলোর সঙ্গে স্থাপন করা হবে বর্জ্য শোধনাগারও।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীর জলাশয়গুলো সামরিক সরকারের শাসনামলে অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় রাজধানীতে বর্তমানে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা যেমন দুর্বল তেমনি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পুকুর বা জলাশয়ের সঙ্গেই যেন তাদের সব শত্রুতা।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আইয়ুব খান ঢাকার কেন্দ্রস্থল মতিঝিলের জলাশয় ধ্বংস করেন। আর এরশাদ ধ্বংস করেন পান্থপথের খাল।’

প্রধানমন্ত্রী স্থপতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘জলাশয় ভরাট না করে আমাদেরকে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় উন্নয়নকাজ করতে হবে। নগরীতে ভবন নির্মাণে আপনাদেরকে আরও যত্নবান হতে হবে। আমাদের দেশে বাড়িঘরে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। তাই এয়ারকন্ডিশনের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য ভবন নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

ব্রিটিশ যুগে তৈরি লাল দালানগুলো বাংলাদেশের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে ধারণ করে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজন না থাকলে এসব ভেঙে ফেলা হবে। ব্রিটিশদের গোলামি করেছি দুই শ’ বছর। আর ব্রিটিশদের সব স্থাপনা আমাদের রক্ষা করতে হবে এটা আমি মনে করি না। হয়তো প্রতীকী হিসেবে দুই-চারটা রাখতে পারি। বাকিগুলো ভেঙে নতুন চিন্তা, নতুন চেতনায় ভালো ভালো ভবন নির্মাণ করতে হবে।’

তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত করতে তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বতো সহযোগিতা করতেও স্থপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।