নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, বইকে কেন্দ্র করে লাখ মানুষের উচ্ছ্বাস-উন্মাদনা আর একুশে চেতনাজাত মিলনমেলা দেখার জন্য আরও একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে বইপ্রেমী মানুষকে।বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা শেষ হচ্ছে সোমবার।
বই কেনাবেচা আর বইয়ের সঙ্গে বাস করে একটি মাস অতিবাহিত হলো। পুরো মাসে যেমন ছিল অনেক ইতিবাচক কার্যক্রম তেমনি অসঙ্গতিরও কমতি ছিল না। ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে— বৃহৎ পরিসরে মেলা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, মেলার বাইরে বারোয়ারি পণ্যের হাট বসতে না দেওয়া, আলোকসজ্জাবৃদ্ধি প্রভৃতি।
মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি সংবাদ সম্মেলনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার অধিকাংশই পূরণ করেনি। মেলা প্রাঙ্গণে— যেমন একটি মিডিয়া সেন্টার নির্মাণের কথা থাকলেও মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহে কোনো রকম একটি ঘর তৈরি করলেও এখানে ছিল না কোনো কম্পিউটার, ছিল না বৈদ্যুতিক সংযোগ।একটি ডিজিটাল নির্দেশিকা থাকার কথা থাকলেও মেলার ষোলতম দিনে শুধু মাইক্রোফোনে এটির উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পুরো মাস জুড়ে স্টলে স্টলে পাইরেটেড বই বিক্রি হলেও সেভাবে অভিযান চালানো হয়নি।
অপরিকল্পিত স্টল বিন্যাসের কারণে মেলা আগত দর্শনার্থীদের অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এ নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের মাঝে। এতে করে যে শুধু দর্শনার্থীদের কষ্ট হয়েছে তা নয়। ঝোপে ও প্রান্তিকে থাকা স্টলগুলোতে ক্রেতা যাওয়ার পরিবেশ না থাকায় অনেক প্রতিশ্রুতিশীল প্রকাশকরা আর্থিকভাবে ক্ষতি হয়েছেন।
২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকাশনা সংস্থা প্লাটফর্মে অজ্ঞাতরা আগুন ধরিয়ে দেয়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় স্টলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পাশে ছিল এ স্টলটি, পথে পথে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তারপরও কীভাবে মেলার পেট্রোল নিয়ে প্রবেশ করলো এবং স্টলে আগুন ধরাল এ বিষয়ে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে প্রশাসন।
২৪ ফেব্রুয়ারি ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়। এতে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও একাডেমির অর্ধেকের মতো জায়গায় পানি জমে যায়। স্টলের ভেতরে পানি উঠে শতাধিক প্রকাশনা সংস্থার বই ভিজে যায়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলেও মেলায় সামান্য অসঙ্গতি মোকাবেলা করতে না পারায় প্রশ্নবিদ্ধ হয় মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।
মেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মেলা একদিন শুধুমাত্র সোয়া এক ঘণ্টা চলে। মেলার সময় বৃদ্ধি তিন ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু প্রকাশকরা দুর্যোগ পরবর্তী সময় মেলার সময়সীমা সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা বৃদ্ধির দাবি জানালে একাডেমি তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে প্রকাশকরা প্রতি বছরের মতো এবারও একাডেমির আচরণে নিন্দা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে আগামী বছর মেলার দায়িত্ব প্রকাশকদের হাতে ছেড়ে দেওয়ারও দাবি জানান।
মেলার অসঙ্গতির মধ্যে যা প্রথমে মানুষকে হতাশ করেছে, তা হলো— মেলার নান্দনিকতা। প্রবেশ পথে দুটি তোরণ ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। মেলায় প্রবেশ না করলে বুঝার কোনো উপায় নেই যে, এখানে বইমেলা হচ্ছে কিনা।
এ ছাড়াও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত এ মেলা ঘুরে দর্শনার্থীদের বিশ্রাম নেওয়ার মতো ছিল না এতটুকু জায়গা। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল না কোনো খাবারের ক্যান্টিন।


এ বিভাগের আরো..
জলদস্যুদের কবলে নওগাঁর সাহিদুজ্জামানের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি
মসিক এ ইকরামুল হক টিটু দ্বিতীয় বার মেয়র নির্বাচিত
চকরিয়ায় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৬তম জন্ম মহোৎসব উদযাপন