ডেস্ক প্রতিবেদন: স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর পর গতকাল রোববার রাজশাহীর একটি পার্কের নামফলক থেকে জিন্নাহর নাম অপসারণ করা হয়েছে। ফলক অপসারণের পর মুক্তিযোদ্ধারা মিষ্টিমুখ করেছেন।
পার্কটির নাম ছিল জিন্নাহ মিউনিসিপ্যাল পার্ক। ফলক অপসারণ করে মুক্তিযোদ্ধারা পার্কটির নাম ‘মুক্তিযোদ্ধা পার্ক’ করার দাবি জানিয়েছেন। ১৯৭০ সালের ৫ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরের সিপাইপাড়া এলাকায় পার্কটির দ্বারোদ্ঘাটন করেছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কে এ জামান-সিএসপি। পার্কটির মাঝখানে এখন একটি বড় পুকুর রয়েছে। চারপাশ দিয়ে ১০-১২টি বসার বেঞ্চ এখনো রয়েছে। উত্তর পাশে রয়েছে সীমানাপ্রাচীর। পার্কটির পশ্চিম পাশে রাজশাহী কারা প্রাথমিক বিদ্যালয়। পার্ক ও স্কুলের মাঝ দিয়ে পদ্মা নদীর ধারে যাওয়ার একটি রাস্তা রয়েছে। এর পাশেই করা হয়েছিল পার্কের প্রধান ফটক। এই ফটকের এক পাশে ছিল নামফলক। এই নামফলকটিই মুক্তিযোদ্ধারা গতকাল অপসারণ করেন।
এ সময় রাজশাহী মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় কমান্ডের কার্যনির্বাহী সদস্য মতিউর রহমান, মহানগর কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার রবিউল ইসলাম, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহজাহান আলী বরজাহান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল মান্নান বলেন, ‘জিন্নাহ যা করে গেছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর না। আজ তার শেষ চিহ্ন এই রাজশাহীর বুক থেকে সরিয়ে দিলাম। যারা আমাদের ভাষা নিয়ে কটাক্ষ করে, আমাদের শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করে, সেই পাকিস্তানিদের কোনো চিহ্ন কোথাও থাকবে না।’
কেন্দ্রীয় কমান্ডের কার্যনির্বাহী সদস্য মতিউর রহমান বলেন, ‘পাকিস্তানের গভর্নর জিন্নাহ আমাদের ভাষাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। যার প্রতিবাদ করেছিল, তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল। সেই জিন্নাহর কোনো চিহ্ন বাংলার মাটিতে থাকবে না।’
ফলক ভাঙা শেষে মিষ্টিমুখ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। আর সেই সঙ্গে পার্কটির নাম পাল্টে ‘মুক্তিযোদ্ধা পার্ক’ করার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত