ডেস্ক প্রতিকবদন: মাস খানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার হেরে গেল মোহাম্মদ জিহাদ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে মারা যায় সে।
ঢামেক এনেসথেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় ও আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার সকাল থেকেই জিহাদের শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটতে থাকে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় মৃত্যুবরণ করে সে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউ’র দুই নম্বর বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এক কিশোর। বয়স কতইবা হবে। খুব জোর এগারো কি বার বছর। সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত এই ছেলেটি ১০দিন যাবত সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভাষায় ছেলেটি মস্তিষ্কে ডিফিউজ এক্সোনাল ইনজুরিতে আক্রান্ত। দেখলে মনে হবে সে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্ক এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে চিকিৎসকরা কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের সাহস পাচ্ছেন না। ভাগ্যবিধাতার ওপর ছেলেটিকে ছেড়ে দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
মৃত্যুশয্যায় থাকলেও হতভাগা ওই কিশোরের পাশে আপনজন কেউ নেই! আইসিইউ’র অন্যান্য রোগীকে তাদের স্বজনরা দেখতে আসলেও ওই কিশোরকে কেউ দেখতে আসেন না। আর আসবেনই বা কি করে। কারণ তারা কেউ হয়তো জানেনই না, কোন হতভাগী মায়ের বুকের ধন এই শিশুটি।
ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর সার্কেল চত্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয় অজ্ঞাতনামা ওই কিশোর। মাথায় তীব্র আঘাতের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার।
দুর্ঘটনার পর অনেক ক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকলে স্থানীয় লোকজন তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাফিজুর রহমান চৌধুরী রাজিব নামে এক যুবক পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন।
ঢামেক এনেসথেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় ও আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুর রহমান শনিবার সন্ধ্যায় জানান, ছেলেটির মস্তিষ্কে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের আঘাতকে ডিফিউজ এক্সোনাল ইনজুরি বলা হয়।
তিনি বলেন, সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কের দুই একটি জায়গায় আঘাত লাগলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইনজুরি সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত এই ছেলেটি মস্তিষ্কজুড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তারা অস্ত্রোপচারের সাহস পাচ্ছেন না।
ছেলেটির আপনজন কেউ না থাকলেও সরকারিভাবে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুপথযাত্রী অজ্ঞাত কিশোরকে বাঁচাতে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মডেল, বৈমানিক, মিস আয়ারল্যান্ড ও মিস আর্থ-২০১৬ এর সেকেন্ড রানার আপ মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি।
‘মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না’ ভুপেন হাজারিকার সেই হৃদয় ছোঁয়া গানটির প্রতিটি লাইনে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করার যে প্রয়াস চালানো হয়েছে, তারই যেন ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসবাসকারী বিশ্ব সুন্দরী প্রিয়তির হৃদয়ে। তার লেখনিতে অজ্ঞাত ওই কিশোরকে বাঁচানোর আকুল অভিপ্রায় ফুটে উঠেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ১১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর সার্কেল চত্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয় অজ্ঞাতনামা ওই কিশোর। মাথায় তীব্র আঘাতের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার। ওইদিন থেকে সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন হয়ে ওই কিশোর আইসিইউর দুই নম্বর বেডে পড়ে আছে।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত