নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজের ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান এবং রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত ‘সঠিক’ বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি ‘আত্মতৃপ্তি’ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিন্ত, আমার সন্তান বেঁচে থাকবে।’
এরশাদ বলেন, ‘একটি ঘোষণায় এত উৎসাহ জাগাতে পারে, পার্টির মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করতে পারে, তা আমার জানা ছিল না। গোটা রাজনৈতির জীবনে আমি যদি কোনো ভালো কাজ করে থাকি তাহলে তা হচ্ছে এই ঘোষণা। এত দিন আমি একটা চাপা কষ্ট নিয়ে ঘুরতাম। মনে শান্তি ছিল না, হাসি ছিল না। প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা হত, আমি না থাকলে এই জাতীয় পার্টি… আমার সন্তানের কী হবে?’
রাজধানী গুলশানের ইমানুয়েলস কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত দলের নবনিযুক্ত কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘এখন আমি নিশ্চিন্ত, আমার সন্তান বেঁচে থাকবে। এই একটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমি বেঁচে থাকলাম। আমরা সন্তান জাতীয় পার্টি এবং তোমরা বেঁচে থাকলে।’
বক্তব্যের শুরুতে এরশাদ জানান, এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আগ্রহ ছিল তার স্ত্রী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদেরও।
এরশাদ বলেন, ‘একটা কথা বলি, একটু আগে রওশন ফোন করেছিল। আমাকে বলল, তুমি কোথায়? আমি বললাম, আমার ভাইয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সে আমাকে জিজ্ঞাস করল, আমাকে নিলে না কেন। আমি বললাম, এখানে তো আমার আসার কথা ছিল না, হঠাৎ করেই এসে পড়েছি।’
এরপর দলের কর্মী-সংগঠকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমার আসার কথা ছিল না, তবু আমি এসেছি। আমি শুধু এসেছি তোমাদের জন্য। তোমাদের দেখে ভালো লাগল, দুঃখ-বেদনা-হতাশা দূর হয়ে গেল।’
বক্তব্যে জাতীয় পার্টির পুনর্বহাল মহাসচিব এ বি এম রহুল আমিন হাওলাদারের প্রশংসা এবং সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সমালোচনা করেন তিনি।
এরশাদ বলেন, ‘রুহুল আমিন ১৪ বছর দলের মহাসচিব ছিল। কিন্তু আমি তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর কোনোদিন আমার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি। এই হচ্ছে আনুগত্য, এই হচ্ছে ভালোবাসা, এই হচ্ছে প্রেম। আর একজনকে মহাসচিব করেছিলাম…, আমার ভাইকে পদ দেওয়ার কারণে তিনি আমাকে আমার পার্টি থেকে বহিষ্কার করে দিলেন। এটা কোনো কথা হতে পারে?’
উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা এ সময় সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘না… না… না…, বাবলু বেঈমান… বেঈমান।’ এরপর কর্মীদের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, ‘আজ থেকে সব দুঃখ ভুলে গেলাম। আমরা এগিয়ে চলব। তোমরা প্রস্তুত?’
কর্মী-সমর্থকরা বলে ওঠেন, ‘হ্যাঁ… হ্যাঁ… হ্যাঁ…।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, ‘এত দিন তোমরা আমার কথা শুনেছ, এখন থেকে আমার ভাইয়ের (জি এম কাদের) কথা শুনবে। তার কথা মেনে চলবে। আমার ভাই স্পষ্ট কথা বলে। সবার মধ্যে দেখি তোষামোদের প্রবণতা। এটা আমি পছন্দ করি না। তোমরা যে বল আমি অমুক… তমুক, আমার দুঃখ লাগে। আমি ভালো, কী মন্দ— তা জনগণ বিচার করবে। আমাকে শুধু বলবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, আর কিছু নয়।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির নবনিযুক্ত কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হওলাদার। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতি।

এ বিভাগের আরো..
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড সভা কাল
অধ্যক্ষ জীবুন নিছাকে সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে পেতে চায় টাঙ্গাইলবাসী