নিজস্ব প্রতিবেদক : প্যারাগন লেদার এ্যান্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার সার্টিফিকেট প্রতারণা মামলার অভিযুক্ত আসামিদের পরবর্তী শুনানির দিন ৪ অক্টোবর ধার্য করেছেন পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। একই দিনে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হবে।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে অবস্থিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হুমায়ুন কবীর গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে এ আদেশ দেন। বুধবার সকালে কজলিস্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে এ মামলায় পাঁচজনের মধ্যে চারজন আসামিকে বিশেষ বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন আদালত। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আব্দুস সালাম, ২৩ সেপ্টেম্বর এস এস জুনায়েদ বাগদাদী এবং ২৮ সেপ্টেম্বর মো. জালাল উদ্দিন ও হেমন্ত বাইনকে জামিন দেন আদালত।
তবে ২৮ সেপ্টেম্বর আসামি এম এ সালাম শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তাকে জামিন দেওয়া হয়নি। বরং তাকে জেলহাজতে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এম এ সালামের বর্তমান শারীরিক অবস্থা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট পাওয়ার পর তার জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, প্যারাগন লেদারের শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসইসি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে ওই কমিটি ২০০১ সালের ৩১ মে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিগণ কোম্পানির শেয়ার জাল করার ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরে এই জাল শেয়ার সার্টিফিকেট কিছু ব্যক্তি ও কোম্পানিটির কিছু কর্মকর্তা ঋণের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়। আর ওইসব জাল শেয়ার সার্টিফিকেট ব্যাংকের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসে। শেষ পর্যন্ত ওই সব শেয়ার বাজারে এসে মারাত্মক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করে এবং নির্দোষ বিনিয়োগকারীদের সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাল শেয়ার গ্রহণ করা ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা আসামিগণের প্রত্যেকের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা করে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। এ ছাড়া আসামিদের দু’জন জাল শেয়ার সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সন্ধানী ক্রেডিট এ্যান্ড কো-অপারেটিভ ও চার্টার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে ঋণ গ্রহণ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটি ওই সময় তিন প্রকার শেয়ার ইস্যু করে, যা ইস্যু করার মতো আইনগত কোনো ভিত্তি ছিল না। আর ফুজি বাংলা নামে কোরিয়ান কোম্পানি থেকে বিল্লি নামে একজনকে প্যারাগন লেদারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করার সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। কিন্তু এটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হওয়া সত্ত্বেও গোপন করে কোম্পানিটি। আর এই তথ্য গোপন রেখে আসামিরা কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয় করে স্বার্থ হাসিলের জন্য।
প্যারাগন লেদারের শেয়ার জালিয়াতি নিয়ে কোম্পানিসহ ২০ জনকে আসামি করে ২০০১ সালে মামলা করে বিএসইসি। আসামিরা হলেন— এম এ সালাম, আবুল কালাম আজাদ, নূর মোহাম্মদ, কোম্পানির এ্যাডভাইজার আব্দুস সালাম, এস এস জুনায়েদ বাগদাদী, মো. কুতুবউদ্দিন, মো. আরব মিয়া, আলী আহম্মেদ, মো. নূরুল আফসার, মো. কলিমউদ্দিন, মো. জালাল উদ্দিন, হেমন্ত বাইন, এবিএম মোরশেদুল হক, মো. সাইফুল্লা মিজান, শামসুল হাদী, মো. বশির আলম, মাহবুবুর, মাহবুবুর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্যারাগন লেদার এ্যান্ড ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

এ বিভাগের আরো..
বিচারক-আইনজীবীদের কালো কোট-গাউন পরতে বাধ্যবাধকতা নেই।
ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন ও ৩ জনের সশ্রম কারাদন্ড
হাইকোর্টের আদেশ আপিলে স্থগিত, রমজানে স্কুল খোলা