ডেস্ক প্রতিবেদন : ভারতের নাসিকে হিন্দু ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান কুম্ভ মেলা উপলেক্ষ সাড়ে ৫ লাখ কন্ডোম বরাদ্দ করেছে মহারাষ্ট্র স্টেট এইচআইডিএস কন্ট্রোল সোসাইটি (এমএসএসিএস)। কিন্তু আধ্যাত্মিক মনে যৌনতার বিষ ঢোকার আশঙ্কায় ফুঁসছেন মেলা উদ্যোক্তা মহন্তরা। “অপবিত্রতা” রুখতে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন তাঁরা। চাপের মুখে এই খবর অস্বীকার করেই আগামী ১৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কুম্ভ মেলার পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইছে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত ক’দিন আগেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় যে নাসিক জেলায় কন্ডোম সরবরাহ প্রায় ৫ গুণ বাড়াতে চলেছে মহারাষ্ট্র স্টেট এইচআইডিএস কন্ট্রোল সোসাইটি (এমএসএসিএস)। গড়ে যেখানে প্রতি মাসে ১.৫ থেকে ২ লাখ কন্ডোম বরাদ্দ হত নাসিকের জন্য, সেখানে কুম্ভ মেলার জন্য এই মাসে প্রায় ৫.৪০ লাখ কন্ডোম পাঠাতে চলেছে এমএসএসিএস। এই সরকারি সিদ্ধান্তেই চোখ কপালে ওঠে মেলার উদ্যোক্তাদের।
কুম্ভ মেলার সঙ্গে কন্ডোম মিলিয়ে দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ কুম্ভ মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা মহন্ত সুধীরদাস পূজারী। সম্প্রতি ১ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, “সংক্রামক যৌনরোগ প্রতিরোধে কন্ডোম ব্যবহারের সচেতনতা বৃদ্ধি করার মধ্যে কোনও ভুল নেই। তবে কুম্ভ মেলার সঙ্গে তাকে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। কুম্ভ মেলার অজুহাত দেওয়াও ঠিক নয়। এরকম করা হলে তা ভক্তদের আবেগে আঘাত হানবে।”
নাসিকে বর্তমানে ২ হাজার মহিলা যৌনকর্মী, ৫৬০ জন সমকামী যৌনকর্মী ওবং ৭০ জন রূপান্তরকামী যৌনকর্মী রয়েছেন বলে রিপোর্টে প্রকাশ। প্রথমে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হলে কন্ডোমের চাহিদা সামাল দেওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে ছিল এমএসএসিএস। কিন্তু, মহন্তদের ক্ষোভের মুখে সে কথা বেমালুম চেপে যেতেই বাধ্য হচ্ছেন তারা। মএসএসিএস প্রোজেক্ট ডিরেক্টর কুশলসিং পরদেশি অবশেষে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, ২৪ লাখ কন্ডোমের চাহিদা আসলে গল্পকথা মাত্র। ৫.৪০ লাখও নয়, মাত্র ২.৬০ লাখ কন্ডোম পাঠানো হচ্ছে নাসিক জেলায়। আর এর সঙ্গে কুম্ভ মেলার কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু, বিতর্ক থামছে কই!

এ বিভাগের আরো..
দেয়ালে আঁকলে বকা না দিয়ে বুদ্ধি খাটান
ঠোঁটের পেছনে খরচ প্রায় ৪ কোটি টাকা