November 6, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আগাম জামিন নিয়ে আপিলের রিভিউ শুনানি ২৮ মে

আদালত প্রতিবেদক : আগাম জামিনের ওপর শর্তারোপ করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন শুনানি আগামী ২৮ মে হতে পারে। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় রায়টি ওই তারিখে শুনানির জন্য আসবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে রিভিউ শুনানির জন্য আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আগামী ২৮ মে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসবে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরি।

আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এর আগে, গত বছরের ১৮ জুন এই রিভিউ আবেদন দায়ের করেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে গত বছরের ২০ মার্চ আপিল বিভাগ সাত দফা নির্দেশনাসহ রায় ঘোষণা করেন। বিদেশে অর্থ পাচারের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আগাম জামিন বাতিল করে ওই রায় দেয়া হয়। আপিল বিভাগের দেয়া সাত দফা নির্দেশনাসংবলিত এ গাইডলাইন অনুসরণ করতে গিয়ে হাইকোর্টে আগাম জামিন প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

একসময় বিশেষ ক্ষেত্রে আগাম জামিন বিবেচনা করতেন হাইকোর্ট। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আগাম জামিনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে বিচারপতি খায়রুল হক তার এক রায়ে আগাম জামিন আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে একটি গাইডলাইন দেন। এরপর আগাম জামিনের হার কমে আসে। ২০১৩ সাল থেকে রাজনৈতিক ধরপাকড়ের সময় আবারও আগাম জামিনের হার বেড়ে যায়। এরপর আপিল বিভাগ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মামলায় আগাম জামিন বাতিল করে এ ধরনের জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে সাত দফা নির্দেশনাসংবলিত একটি গাইডলাইন দেন।

সাত দফা নির্দেশনাগুলো হল :

এক. কারও জন্য আগাম জামিন বিবেচনার দরজা খুলতে তাদের (বিচারক) এ মর্মে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, গড়পড়তা দাবির ওপর বিশ্বাস না করে সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট, যৌক্তিক, বিশ্বাসযোগ্য কারণ রয়েছে এবং যথেষ্ট ব্যাখ্যাসহ সিদ্ধান্তটি নেয়া হচ্ছে। হাকিম বা নিম্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নির্বাহী বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে- এ রকম যুক্তিকে সুনির্দিষ্ট ধরে নেয়া যাবে না, কেননা হাকিম বা নিম্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা এখন আর নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

দুই. নির্দেশনার দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, আবেদনকারীর রাজনৈতিক পরিচয় অথবা তার সঙ্গে কারও বিরোধের দাবি (যে কারণে মামলা হয়েছে) আবেদন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে বিবেচ্য হতে পারে না।

তিন. এজাহারে অপরাধ জামিন অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা থাকলে হাইকোর্ট বিভাগকেই যে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে- এমন কথা নেই। যথাযথ ক্ষেত্রে হাকিম/নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের বিচারকরাও এ ধরনের আসামির জামিন বিবেচনা করতে যথেষ্ট দক্ষ।

চার. অভিযুক্তের জামিনের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন ক্ষেত্রে আগাম জামিন প্রদানের আগে অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

পাঁচ. প্রত্যাশিত শ্রম দিয়ে হাইকোর্টকে অবশ্যই এজাহারের ঘটনা খুঁটিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগের ধরন যদি জঘন্য হয় তবে অবশ্যই আগাম জামিন মঞ্জুর করা যাবে না।

ছয়. জামিন আবেদনকারীর অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তের (মামলাকারকের) এবং সামগ্রিকভাবে সমাজের স্বার্থের বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

সাত. সকল দিক সন্তোষজনক হলে হাইকোর্ট অবশ্যই কোনো ধরনের রুল ইস্যু ছাড়াই আগাম জামিনের আবেদনসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেন। তবে এ ধরনের জামিনের মেয়াদ চার সপ্তাহের বেশি হবে না।