নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই দেশের নৌপথ ব্যবহার করে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে একটি চুক্তির খসড়া অনুস্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ-ভারত। এখন ‘এগ্রিমেন্ট অন কোস্টাল শিপিং বিটুইন দ্য গভর্নমেন্ট অব পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’ খসড়াটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেল।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর চুক্তিটি এখন স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এলে চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কানেকটিভিটি বাড়বে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতে ও ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্যবাহী জাহাজ আসতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে যাওয়া-আসা করা সম্ভব হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ও কমবে।’
এ চুক্তির আওতায় দু’দেশের পণ্যবাহী জাহাজ সমান সুবিধা ভোগ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের সমুদ্র ও নদীপথ ব্যবহার করতে পারবে। চুক্তির মেয়াদ হবে ৫ বছর। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি নবায়ন হবে। চুক্তি বাতিল করতে চাইলে ৬ মাস আগে নোটিশ দিতে হবে।’
তবে যুদ্ধ জাহাজ, জরিপকারী জাহাজ ও মাছ ধরার জাহাজ এ চুক্তির আওতায় আসবে না বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
‘চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালন পদ্ধতির মান (এসওপি-স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) নির্ধারণ করতে হবে। পদ্ধতিগত ডিটেইলস সেখানে বলা থাকবে। আমরা এটা তৈরি করে ভারতে পাঠিয়েছি। ভারত এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।’
দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট সিপিং কমিটি থাকবে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, ‘এ কমিটি মাঝে মাঝে বসে চুক্তিটি পর্যালোচনা করবে। কোনো অসুবিধা থাকলে দূর করবে। আরও কোনো বিষয় যুক্ত করতে হলে তা যুক্ত করবে।’
গত ২০ থেকে ২২ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত নৌ-সচিব পর্যায়ের বৈঠকে কোস্টাল শিপিং এগ্রিমেন্ট অনুস্বাক্ষরিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন নৌসচিব রাজিব কুমার।
ভারত সফরের বিষয়ে গত ২৯ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে কলম্বো, সিঙ্গাপুর পোর্ট হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ও ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনা নেওয়া করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে এক দেশ থেকে আরেক দেশের দূরত্ব সাড়ে ৩ হাজার নটিক্যাল মাইল। কোস্টাল শিপিং এগ্রিমেন্টের পর এ দূরত্ব কমে হবে ৬২০ নটিক্যাল মাইল। কোনো পণ্য পরিবহণে আগে যেখানে ৯০ ডলার খরচ হতো এখন সেখানে ৩৫ ডলার খরচ হবে বলেও জানানো হয়।

এ বিভাগের আরো..
সাবেক বিচারপতি আবদুল আউয়ালের ইন্তেকাল
দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ নিলেন
কয়রায় জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত