October 11, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

হাসপাতাল থেকে আবার কারাগারে রনি

নিজস্ব প্রতিবেদক : হাসপাতালে দুই মাসেরও বেশি সময় আয়েশী জীবন কাটিয়ে অবশেষে কারাগারেই ফিরতে হলো ইস্কাটনে জোড়া খুন মামলার প্রধান আসামি বখতিয়ার আলম রনিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে অসুস্থতার কথা বলে জানুয়ারি মাসে রনিকে এখানে ভর্তি করা হয়।

গত বছরের এপ্রিলে বখতিয়ার আলম রনির বন্দুকের গুলিতে রিকশাচালক হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বিকেলে এ ব্যাপারে কথা হয় কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেসার আলীর সঙ্গে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি (রনি) অসুস্থ ছিলেন। এখন সুস্থ হয়েছেন বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। এ কারণে কারাগারে আনা হয়েছে। আর হাসপাতালে থাকলেও তাকে জেলকোডের ভেতরে থেকেই জীবনযাপন করতে হয়েছে।’

হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থোপেডিক সমস্যায় ভুগছেন- রনি কারা কর্তৃপক্ষকে এ কথা বলার পর চিকিৎসকের পরামর্শে গত ৩১ জানুয়ারি তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর এখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। এর আগেও অসুস্থতার কথা বলে চার দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে ভর্তি ছিলেন তিনি। তবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামি হলেও হাসপাতালে আয়েশী জীবনযাপন করেছেন। এখানে একটা কেবিন তার জন্য বরাদ্দ ছিল। চিকিৎসার নাম করে হাসপাতালে থাকলেও তার সঙ্গে দেখা করতে অনেকেই আসতেন। রাতদিন চলত আড্ডা। নিকট আত্মীয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোবাইল ব্যবহার করে বাইরে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতেন। আর তার কেবিনটি ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। পোশাক-আশাকে কখনোই বোঝা যায়নি যে, তিনি একজন বন্দি।

বখতিয়ারের নিরাপত্তায় কাজ করেছে, কারাগারের এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি খাবারও খেতেন আর দশজনের চেয়ে অন্যরকম। সকাল-বিকাল, এমনকি রাতেও বেশিরভাগ সময় পোলাও-কোরমা খেতেন। আর খাবার গরম খেতে তিনি বেশ পছন্দ করেন। এ কারণে মেশিন কেনা হয়। আর জুস খেতে একাধিক ব্ল্যান্ডার কেনন গত দুই মাসে। রুটি, বিস্কুট, ফল-ফলাদি সব সময় কেবিনের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকত। মোবাইলে নানা ছবি দেখতেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গান শুনতেন।  অলস সময় পার করতে তাসও খেলতেন। পত্রপত্রিকা পড়তেন দিব্বি। যখন খুশি তখন কেবিনের বাইরে গিয়ে হাঁটতেন এবং সিগারেট ফুঁকতেন। এসব করা হতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনে। তাদেরও করার কিছু ছিল না। তার মা একজন সংসদ সদস্য, এই ভয় যেমন ছিল, তেমনই দায়িত্বে থাকা লোকজনকে নগদ অর্থ দিতেন রনি।

গত বছরের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে রনি  মদ্যপ অবস্থায় নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ১৫ এপ্রিল রমনা থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৪ মে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে আটক করে। ২১ জুলাই তাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবির এসআই দীপক কুমার দাস। ৬ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত দ্বিতীয় মহানগর দায়রা জজ সামছুন নাহার রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

বখতিয়ার আলম রনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে।