October 13, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কফির কাপে ক্যানসার বিষয়ক সতর্কবার্তা!

প্রথমকথা ডেস্ক: কফির কাপে ক্যানসার বিষয়ক সতর্কবার্তা লেখার নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত। কফিতে থাকা অ্যাক্রিলামাইড নামের একটি রাসায়নিক থাকে। এ রাসায়নিকের সাথে ক্যানসারের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এ নিয়ে মামলা হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্টারবার্কস আর অন্য কফি বিক্রেতাদের খুব তাড়াতাড়ি কফি কাপে এই বার্তা সংযোজন করার আদেশ দেয়া হয়।কফি বীন সেদ্ধ করা হলে বাই-প্রডাক্ট হিসাবে এই রাসায়নিক তৈরি হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালত সতর্কবার্তা দেয়ার আদেশ দিলেও, বিজ্ঞানে বা গবেষণায় এর কোনো ক্ষতির প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির ড. লেন লিকটেনফেল্ড বলেন, সাধারণত যে পরিমাণ কফি আমরা প্রতিদিন পান করি, তাতে ক্যানসার হতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ আমরা এখনো পাইনি। অনেকে হয়তো রাসায়নিকের প্রভাব নিয়ে আমাদের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। কিন্তু যারা কফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য বলতে পারি, অন্য অনেক কিছুর তুলনায় প্রতিদিন কয়েক কাপ কফিতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য।

উচ্চ তাপমাত্রায় বানানো পাউরুটির টোস্ট, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা রোস্ট আইটেমের মতো অনেক কিছুতেই এই রাসায়নিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়।যে সব রাসায়নিক ক্যানসার বা কোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে, তার একটি তালিকা তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য এবং ১৯৯০ সালে এই তালিকায় অ্যাক্রিলামাইডকে যুক্ত করা হয়। অঙ্গরাজ্যটির সেফ ডিংকিং ওয়াটার অ্যান্ড টক্সিক এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, তালিকায় থাকা কোনো রাসায়নিক যদি খাবারে থাকে তাহলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সে বিষয়ে অবশ্যই সতর্কবার্তা উল্লেখ করতে হবে। আইনটি ১৯৮৬ সালে পাশ হয়।

তবে সেটা যাই হোক না কেন, ক্যালিফোর্নিয়ার যে ৯০ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়, তার অর্ধেকই কফি নিয়ে এই সতর্কবার্তা কফির কাপে যুক্ত করে দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে।অঙ্গরাজ্যটির লং বিচ ভিত্তিক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন টক্সিন ২০১০ সালে এ বিষয়ে একটি মামলা করে। আর গত মাসের শেষের দিকে কফির কাপে ক্যান্সার বিষয়ক সতর্কবার্তা লেখার আদেশ দেয় আদালত।

প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তাদের আশা, এর ফলে কফি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রিলামাইড ব্যবহার কমাবে।কিন্তু এরকম একটি সতর্কবার্তা লেখা থাকার পরও লোকজন কি কফি পান করতে চাইবে? এ নিয়ে একজন বলেন, কোনো একদিন তো মারা যেতেই হবে। তাহলে আমি কফির স্বাদ হারাবো কেন?

অপর একজন কফি-প্রেমিক বলেছেন, যেকোনো কিছুতে কিছু সমস্যা হতে পারে, তাতে এরকম সতর্কবার্তা থাকা ভালো। জেনেশুনে যদি কেউ খেতে চায় খাবে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় এ রকম অনেক সতর্কবার্তাই আপনি দেখতে পাবেন।ক্যালিফোর্নিয়ায় অনেক অফিস, পার্কিং, এমনকি ডিজনিল্যান্ডের সামনেও এরকম সাইনবোর্ড থাকে যেখানে লেখা- ‘আপনি রাসায়নিক প্রভাবিত এলাকায় প্রবেশ করছেন যাতে আপনার শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

বেশিরভাগ মানুষই অবশ্য এগুলো গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু সামান্য রাসায়নিক রয়েছে, এরকম প্রতিটা ক্ষেত্রে আইনের কারণে এরকম নোটিশ দিতে বাধ্য সংশ্লিষ্টরা।এদিকে কফি কোম্পানিগুলো বলছে, ওই মামলার পর ক্রেতাদের মধ্যেই অনেক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকেই ব্যবসার মন্দা নিয়েও চিন্তিত।

বাবেক রোশান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বড় কোম্পানিগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে আমাদের ব্যবসায়েও এর প্রভাব পড়বে। একটি বড় অংশের মানুষ হয়তো এই সতর্কবার্তা দেখে কফির কাপ হাতে নিতে দ্বিধায় ভুগবে। হয়তো ভাববে, সতর্কতা হিসেবে কফি বাদ দিয়ে বরং অন্য কিছু খাওয়া ভালো।অপরদিকে এলএ টাইমসে লেখা চিঠিতে এক পাঠক প্রশ্ন করেছেন, এরপরে কি আমাদের ঘরের বাইরে যেতেও সতর্কবার্তার মুখে পড়তে হবে? কারণ বাইরে গেলেই তো রোদে পড়তে হবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় হয়তো সবকিছুই সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমস