October 13, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আইভি রহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ডেস্ক : আজ ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত, আওয়ামী লীগ নেত্রী, ভৈরববাসীর অতি আপনজন শহীদ আইভি রহমানের ১৩তম মৃত্যু বার্ষিকী।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগের জনসভায় ঘাতকের ছোঁড়া গ্রেনেডে মারাত্মকভাবে আহত হন আইভি রহমান। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৪৪ সালের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের চন্ডিবের গ্রামে ঐতিহ্যবাহী সভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মরহুম জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। মা হাসিনা বেগম ছিলেন আর্দশ গৃহিণী। আট বোন, চার ভাইয়ের মধ্যে আইভি ছিলেন পঞ্চম। ছেলে বেলা থেকেই আইভি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, তবে প্রখর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্যপূর্ণ স্বভাবের জন্য তাঁকে বাইরে থেকে খুব কঠিন মনে হলেও, আদতে তিনি ছিলেন খুবই দরদী মনের মানুষ। যারা মিশেছেন, কাছে গেছে তারাই পেয়েছে অপরিসীম ভালোবাসা, আদর, মমতা আর সহযোগিতা- জানালেন, ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং মরহুম মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের একান্ত সহচর আলহাজ্ব মো: সায়দুল্লাহ মিয়া।

তাঁর পুরো নাম জেবুন্নাহার আইভি। ১৯৫৮ সালের ২৭ জুন নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগনেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম মোঃ জিল্লুর রহমানের সাথে বিয়ে হলে নামের পরে ‘রহমান’ যুক্ত হয়। এ নামেই তিনি পরিচিতি পান দেশব্যাপি। শুধু আওয়ামী রাজনীতির জন্য নয়, আইভি রহমান বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সাথে পারিবারিকভাবেও জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহেনার খালা শ্বাশুড়ি। একমাত্র ছেলে (বর্তমানে ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের সাংসদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের চেয়ারম্যান) নাজমুল হাসান পাপন, দুই মেয়ে তানিয়া বখত, ময়না এবং তাদের ছেলে-মেয়ে ও স্বামী জিল্লুর রহমানকে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবন ছিল সুখময়।

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্যা বেগম আইভি রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির বর্ণাঢ্য জীবন শুরু করেন। ছাত্র জীবনে তিনি তখন ছাত্রলীগের প্রথম সারির নেত্রী ও নীতিনির্ধারক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। ভারতে গিয়ে সশস্ত্র ট্রেনিং গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি ।

রাজনীতি ছাড়াও তিনি আজীবন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিজকে বেঁধে রেখেছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ভৈরবের মেয়ে ও বউ আইভি’র সহযোগিতার হাত ভৈরববাসীর জন্য আর প্রসারিত হবে না কোন দিন-এখনো যেনো ভাবতেই পারেনা ভৈরবের মানুষ। অকুতোভয় সংগ্রামী এই মানুষটির হঠাৎ মৃত্যু বাঙালি জাতি যেমনি মেনে নিতে পারেনি, তেমনি মেনে নিতে পারেনি ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষও। আইভির দিকে গ্রেনেড ছুঁড়ে দেয়া সেসব ঘাতকদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দ্রুত শাস্তি দেয়ার দাবী সকল ভৈরববাসীর।

আইভি রহমান হত্যাকান্ডের বিচার সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর ছেলে নাজমুল হাসান পাপন জানান. ভৈরববাসীর মতো পুরো দেশবাসী এমন একটি বর্বর হত্যাকান্ডের বিচার প্রত্যাশি। তবে এতো বড় একটি ঘটনার বিচার কাজ তো হুট করে সম্ভব নয়। অনেক সাক্ষী-প্রমাণের বিষয় থাকে। তাই দেরী হচ্ছে। একটা সময় ছিলো, জজমিয়া নাটক সাজিয়ে এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আমাদেও পূর্ণাঙ্গ ভরসা আছে। যদি তিনি দেশের শাষণ ক্ষমতায় থাকেন, তবে এই জগন্য ঘটনার বিচার হবেই। আমরা সেই আশাতেই বসে আছি।

আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভৈরবে নেওয়া হয়েছে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী। এরমধ্যে সকাল ৭টায় ভৈরব বাজারস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করবেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে খতমে কোরআন। একই সময়ে তাঁর নিজবাড়ি আইভি ভবনেও অনুষ্ঠিত কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে শহীদ আইভি রহমানের প্রতিকৃতিতে দলীয় নেতা-কর্মীরা মাল্যদান করবেন। বিকাল ৪টায় উপজেলা পৌর আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল।

অন্যদিকে সরকারি জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজ ও রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ নিজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। সকাল সাড়ে ১০টায় হত্যাকান্ডের বিচার দাবীতে শোক র‌্যালী ও মানব বন্ধনের আয়োজন করেছে তাঁর বাবার বাড়ি চন্ডিবের মুর্শিদ-মুজিব উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ। ওই কর্মসূচী পালিত হবে ওখানে স্থাপিত তাঁর স্মৃতি ম্যুরালে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল। সন্ধ্যা ৭টায় ভৈরব প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে আইভি রহমান স্মরণসভা।