October 11, 2026

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শুল্ক কাঠামো শিল্প সহায়ক নয় : শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশীয় শুল্ক কাঠামো শিল্প সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার (১৬ মে) ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস এবং দেশীয় উদ্যোগে মোবাইল ফোন শিল্প স্থাপনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন বলেন, মোবাইল ফোন আমদানিতে ভ্যাট, কাস্টমসহ ২১.৭৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এর সাথে এআইটি ধরা হয় ২ শতাংশ। কিন্তু দেশে মোবাইল ফোন তৈরি করলে সব কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশের গড় শুল্ক দাঁড়ায় ৩৭ থেকে ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে মোবাইল ফোন তৈরি করার চেয়ে আমদানি করা লাভজনক। যা দেশীয় শিল্প সহায়ক শুল্ক কাঠামো নয়।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিএমবিএ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ, সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে মোবাইল ফোনের বিরাট বাজার থাকলেও নিজস্ব কোনো মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড নাই। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা আগ্রহী হলেও বিদ্যমান শুল্কনীতি বড় অন্তরায়।
মন্ত্রী বলেন, দেশে ১৩ কোটিরও বেশি মোবাইল ফোনের গ্রাহক রয়েছে। এই ফোন ব্যবহারে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে দশম স্থানে। অথচ এটি এখনো সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর। বিশ্বায়নের এ যুগে আমদানি নির্ভরতা জাতি হিসাবে লজ্জাজনক।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, মোবাইল ফোন উৎপাদন বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় শিল্পখাত। এই খাতের সাথে ৫ লাখ ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে। এ বিবেচনায় মোবাইল ফোন শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষে থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া হবে।
বিএমবিএ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু বলেন, কিছু স্বার্থপর মহল চতুরতার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের ভুল বুঝিয়ে সম্ভাবনাময় মোবাইল ফোন খাতকে আমদানি নির্ভর করে রেখেছে।
সভায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোন শিল্প গড়ে তুলতে সকল প্রকার যন্ত্রাংশ ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর শুল্কহার শূন্য করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ ও মোবাইল ফোন শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা চান।